

আবু তাহের, স্টাফ রিপোর্টার :
গাইবান্ধার সাঘাটায় স্ত্রীর জমি দলিল সম্পাদন করে দিতে অস্বীকৃতির কারণে শাপলা নামের এক গৃহবধূ ও তার সন্তানদ্বয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন, মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সানজিদা শেলী (শাপলা) ০৯ এপ্রিল সাঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ঝাড়াবর্ষা গ্রামের সানজিদা শেলীর সাথে প্রায় ২০-২২ বছর আগে বেঙ্গারপাড়া গ্রামের সেনাসদস্য আশরাফুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১৬ ও ০৭ বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিবাদী আশরাফুল ইসলাম চাকুরী থেকে অব্যাহতি নেয়ার পর থেকে অনলাইন জুয়া খেলা ও ইয়াবা নামের মাদক নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। জুয়া খেলায় তার গচ্ছিত সকল অর্থ হেরে ও মাদক নেশার টাকা জোগাতে বিভিন্ন জনের নিকট অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সে সময় সানজিদা সংসারের সুখের আশায় বিয়ের সময়ে ত্র পিতা মাতার দেয়ার সকল স্বর্ণালঙ্কার ও স্বামী স্ত্রীর নামে যৌথ কিছু জমি বিক্রি করে স্বামীর ঋণের একটি বড় অংশ পরিশোধ করেন।
পরবর্তীতে বিবাদী আশরাফুল ওই গৃহবধূর ডাকবাংলা বাজারের পাশে নিজ নামে কেনা ২.৫০ শতক জমির উপর নির্মিত মাথা গোঁজার ঠাঁই চার তলা একটি বিল্ডিং এর জমি তার স্বামী লিখে নেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে শাপলা রাজি না হওয়ার পর থেকেই সানজিদার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন তার স্বামী । এক পর্যায়ে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সানজিদার নামের কেনা আড়াই শতক জমির মধ্যে ০২ শতক জমি তার দুই ছেলের নামে লিখে দিলে তার স্বামী আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকেই তিনি স্ত্রী-সন্তানদের ভরণ-পোষণ বন্ধ করে দেন এবং আলাদা বসবাস শুরু করেন।
অভিযোগে শাপলা আরও উল্লেখ করে গত ০৯ এপ্রিল ২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে সাতটায় সময় বিবাদী আশরাফুল ইসলাম লোহার শাবল দিয়ে তার বাড়ির গেটের তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করেন। এসময় আশরাফুল স্ত্রী সানজিদা ও তার এসএসসি পরীক্ষার্থী এক সন্তানসহ ৭ বছরের ছোটো সন্তানদের উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারপিট এবং হত্যার চেষ্টা চালান ।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদী উপস্থিত সবার সামনেই স্ত্রী-সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে বলে বাহিরের লোকজন ডেকে নিয়ে এসে তাদের বাড়ি ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘর বাড়ি দখল করবে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সানজিদা শেলী শাপলা বলেন, "আমি এবং আমার সন্তানরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তার দ্বারা আমার ও আমার সন্তানদের যে কোনো সময় বড় ধরণের ক্ষতি সাধন হতে পারে। তাই আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।
