

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
১৯৪০ সালের ১ মার্চ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বদরপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন মাওলানা লুৎফুর রহমান। দরিদ্র পরিবারের পারিবারিক পরিবেশে অতিবাহিত হয় মাওলানার শৈশব কাল। এই দারিদ্রতা তার জীবনের শেষ দিন অবধিই তার সঙ্গী ছিল।
মাওলানা লুৎফর রহমান রহ. এর কথা মনে পড়লেই তার জীবনের এই সরলতা, জাগতিক মোহ থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টিই সর্বাগ্রে মনে পড়ে বলে জানান উনার ভক্তবৃন্দ।
তিনি ছিলেন ইসলামিক ও উভয় জ্ঞানেই পারদর্শী একজন মানুষ। ছাত্রজীবনে কামিল পর্যন্ত সব ক্লাসে পেয়েছেন স্কলারশিপ এবং ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘ নোয়াখালী জেলার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি কামিলে অধ্যয়নরত অবস্থায় রায়পুর আলীয়ার শিক্ষকগণ-ই ১৯৬৬ সালের রমজান মাসে রায়পুর বাজারের বড় মাসজিদের ব্যানারে মাসব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করেন এবং সেখানেই তিনি ওয়াজ করে সুনাম অর্জন করেন।
তিনি ১৯৭৪ সালে জামায়াতের রুকন হয়েছিলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসাবে ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে লক্ষ্মীপুর ১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। মিরপুর সমাজ কল্যাণ মাসজিদের খতীব হিসাবেও দীর্ঘদিন দায়িত্বরত ছিলেন। জীবনের শেষ দিন অবধি তিনি বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাচ্ছিরীন এর কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর ছাতারপাইয়া নামক জায়গায়। পরের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মাওলানা ব্রেইন স্ট্রোক করেন এবং ধানমন্ডির ইবনে সিনা হসপিটালের স্ট্রোক আইসিউতে একটানা ১৯ দিন অচেতন অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে থেকে ৩ মার্চ বেলা ২:৪৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।
