

স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা :
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে গাইবান্ধার একটি প্রতারক চক্রের কাছে নগদ অর্থ, ব্লাঙ্ক চেক ও ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প দিয়ে অবশেষে চাকুরি প্রত্যাশী বিপাকে পড়েছে।
চাকুরি না হলেও চাকুরি প্রত্যাশীর চেক স্ট্যাম্প ফেরত না দিয়ে হয়রানির হুমকি দিচ্ছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ গত রোববার সাঘাটা একটি পত্রিকা অফিসে সাংবাদিকের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন।
ভুক্তভোগী জানান, তার স্ত্রী জুঁই আক্তারকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন যাদুরতাইড় গ্রামের মৃত মহাব্বত আলীর পুত্র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
চাকরি নিশ্চিত করার শর্তে জাহাঙ্গীর তার কাছে ১৩ লাখ টাকা দাবি করেন। পূর্বপরিচিত হওয়ায় তার কথায় বিশ্বাস করে আব্দুল মজিদ নগদ ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। পাশাপাশি ৩টি চেকের পাতা এবং ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পও নেয়। বাকি টাকা চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পর দেয়ার কথা ছিল। তখন ব্লাঙ্ক চেক স্ট্যাম্প ফেরত দিবে।
সে মোতাবেক গত ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় দিনে শহিদুল ইসলাম নামে জনৈক ব্যক্তি ০১৩৪২-৮৮৭৪৬৬ হোয়াটস্অ্যাপ থেকে মজিদকে ১৫ কপি প্রশ্নের উত্তরসহ প্রেরণ করেন। কিন্তু পরিক্ষায় অকৃতকার্য হন মজিদের স্ত্রী।
এরপর তিনি জাহাঙ্গীরের কাছে টাকা ও নথিপত্র ফেরত চাইলে জাহাঙ্গীর সেগুলো ফেরত না দিয়ে চেক ও স্ট্যাম্প গোবিন্দগঞ্জের শ্রীপতি এলাকার জহুরুলের পুত্র শহিদুল ইসলামের কাছে রয়েছে জানান। যিনি মজিদকে প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপ দিয়েছেন।
বর্তমানে জাহাঙ্গীর ও শহিদুল যোগসাজশে ওই ৩টি চেক ব্যবহার করে অর্থ দাবি করছে অভিযোগ মজিদের।
অভিযোগের সত্যতা বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর ৩টি চেকের পাতা ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গোবিন্দগঞ্জের শহিদুল তার পরিচিত এবং চাকরির বিষয়টি তিনিই আমাকে বলেছিলেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বলেন ফোনে এত কথা বলা যাবে না।
