

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে ভোটের হিসাবে উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের প্রার্থীদের।
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ): এ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম ধানের শীষ প্রতীকে ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের এনসিপির মাহবুব আলম (শাপলা প্রতীক) পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৬৫ ভোট। মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৮১ হাজার ৩০২ জন। ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৬২ জন। ভোটের হার ৫৭.৯৩ শতাংশ।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর-সদর একাংশ): বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়া ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা আমির মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া পান ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৮ ভোট। এ আসনে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ২৬ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৭০ জন ভোট দেন। ভোটের হার ৬০.১৭ শতাংশ।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর): বিএনপির শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতের ড. রেজাউল করিম পান ১ লাখ ২২ হাজার ৮০২ ভোট। ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭৩ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৭২ হাজার ৪৩০ জন ভোট দেন। ভোটের হার ৬১.২৯ শতাংশ।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর): ধানের শীষ প্রতীকে এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের এ আর হাফিজ উল্লাহ পান ৭৩ হাজার ৭৫৬ ভোট। মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ১৮ হাজার ১৫৮ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৭ জন। ভোটের হার ৫৭.৬৩ শতাংশ।
জামায়াত জোটের মোট প্রাপ্ত ভোট চারটি আসনে জামায়াত জোটের মোট প্রাপ্ত ভোট ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৫২১। বিশ্লেষণে দেখা যায়, পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় দলটির ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অতীত নির্বাচনের তুলনামূলক চিত্র ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারটি জাতীয় নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরে বিএনপির গড় ভোট ছিল ৩৮.৮৭ শতাংশ। ১৯৯১ সালে: ৩৭.৫৯% ১৯৯৬ সালে: ৩৭.১০% ২০০১ সালে: ৪১.৬৫% ২০০৮ সালে: ৩৯.১৩% বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে শতাংশের হিসাবে বিএনপির গড় ভোট কিছুটা কমেছে, যদিও আসনসংখ্যায় তারা এগিয়ে রয়েছে।
ভোট বৃদ্ধির কারণ নিয়ে ভিন্নমত জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মহসিন কবির মুরাদ দাবি করেন, আদর্শভিত্তিক রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের তৃণমূল কার্যক্রমের ফলে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে জামায়াত। নারী ও তরুণ ভোটারদের বড় অংশ তাদের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান বলেন, বিএনপির ভোটও অতীতের তুলনায় বেড়েছে। তবে জামায়াত গ্রামাঞ্চলে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনে বিএনপি জয় পেলেও ভোটের পরিসংখ্যানে জামায়াতের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে জেলার ভোটের সমীকরণে নতুন ভারসাম্য তৈরি হতে যাচ্ছে।
