ঢাকা
১০ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিকাল ৩:৪৪
প্রকাশিত : জানুয়ারি ৮, ২০২৬
আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০২৬
প্রকাশিত : জানুয়ারি ৮, ২০২৬

কোন পাপের কত বছর শাস্তি: পবিত্র কোরআন ও হাদিস কি বলে?

ইসলাম ডেস্ক:

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সুনির্দিষ্টভাবে কোন পাপের "কত বছরের শাস্তি" এমন উল্লেখ নেই, বরং পাপের ধরন অনুযায়ী দুনিয়াবী শাস্তি (যেমনহদুদ, কিসাস, তাযীর) ও আখিরাতের শাস্তি(যেমন- জাহান্নামের আগুন, স্থায়ী বা সাময়িক ভোগান্তি) নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মূলত পাপের গুরুত্ব, পুনরাবৃত্তি এবং আল্লাহর রহমত ও ন্যায়বিচারের ওপর নির্ভরশীল; কোরআন ও হাদিস পাপের পরিণতির কথা বলে, নির্দিষ্ট বছরের মেয়াদে নয়। 

কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা:

কোরআন: পাপের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন শাস্তির কথা বলে, যেমন শিরক, নরহত্যা, চুরি, ব্যভিচার ইত্যাদির জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট বছর উল্লেখ করা হয়নি, বরং "চিরকাল" বা "মারাত্মক শাস্তি" বলা হয়েছে (যেমন: সূরা বাকারা, সূরা নিসা, সূরা মায়েদা)।

হাদিস: নামাজের গুরুত্ব, শিরক ও অন্যান্য গুনাহের ভয়াবহতা বর্ণনা করে, যেমন নামাজ না পড়লে কবরে ও আখিরাতে আলো থাকবে না। পাপ করলে আল্লাহর নিয়ামত হ্রাস পায় এবং পাপী আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়, যা বছর দিয়ে মাপা যায় না। 

দুনিয়াবী শাস্তি: ইসলামী শরিয়তে কিছু পাপের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি (যেমন: চুরির জন্য হাত কাটা, ব্যভিচারের জন্য বেত্রাঘাত/পাথর নিক্ষেপ), যা 'হুদুদ' নামে পরিচিত, নির্ধারিত আছে, তবে প্রয়োগ নির্ভর করে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও শর্তের ওপর।

আখিরাতেরশাস্তি: অধিকাংশ পাপের শাস্তি আখিরাতে নির্ধারিত, যা আল্লাহর ইচ্ছা ও ব্যক্তির আমলের ওপর নির্ভরশীল; কিছু পাপের জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম, কিছু পাপের জন্য সাময়িক শাস্তি।

ক্ষমা ও তওবা: পাপের শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হলো আন্তরিক তওবা ও ইস্তিগফার, যা পাপকে মুছে দেয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতের শাস্তি থেকে বাঁচায় (যেমন: সূরা ফুরকানের ৭০ নং আয়াত)। 

 কোরআন ও হাদিস পাপের পরিণতি ও শাস্তির ভয়াবহতা তুলে ধরে, কিন্তু নির্দিষ্ট সময় (যেমন 'এত বছর') বেঁধে দেয় না; শাস্তি নির্ভর করে পাপের প্রকৃতি এবং আল্লাহর ইচ্ছা ও বান্দার কর্মের ওপর।

১. কুফর (অবিশ্বাস), শিরক (আল্লাহর সাথে শরীক করা) এবং নিফাক (মুনাফেকি) অবস্থায় মারা গেলে তার শাস্তি হবে চিরস্থায়ী। কোরআনে বারবার বলা হয়েছে তারা সেখানে "চিরকাল" (আবাদান) অবস্থান করবে। 

২. সূরা আন-নাবায় (আয়াত ২৩) বলা হয়েছে যে, পাপাচারীরা জাহান্নামে 'আহকাব' বা বহু যুগ অবস্থান করবে। কিছু তাফসিরে এক 'হুকবা' (একবচন) বলতে ৮০ বছর বলা হয়েছে, যেখানে পরকালের একদিন হবে দুনিয়ার এক হাজার বছরের সমান। তবে অনেক আলেম এই বর্ণনাগুলোকে "জঈফ" বা দুর্বল বলে গণ্য করেন। 

৩. লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, এক ওয়াক্ত নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করলে 'এক হুকবা' বা ২ কোটি ৮৮ লক্ষ বছর জাহান্নামে জ্বলতে হবে। কিন্তু বিশুদ্ধ হাদিসে এমন কোনো নির্দিষ্টবছরেরসংখ্যার উল্লেখ নেই; বরং এটিকে ভিত্তিহীন বা বানোয়াট বর্ণনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

৪. দুনিয়াবি বিচারের ক্ষেত্রে অবিবাহিত ব্যভিচারীর জন্য বছরের নির্বাসন এবং ১০০ বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে। এছাড়া পরকালে ব্যভিচারী বা সুদখোরদের কিয়ামত পর্যন্ত বিশেষ যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় থাকার বর্ণনা রয়েছে। 
পরকালে কার কতদিন শাস্তি হবে তা সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন। গুনাহগার মুমিনরা তাদের পাপের মাত্রা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করার পর ঈমানের উসিলায় মুক্তি পাবে, কিন্তু সেই মেয়াদের প্রকৃত দৈর্ঘ্য একমাত্র আল্লাহই জানেন।

প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram