ঢাকা
১০ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিকাল ৩:৪৫
প্রকাশিত : জানুয়ারি ৬, ২০২৬
আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০২৬
প্রকাশিত : জানুয়ারি ৬, ২০২৬

আমি এখনও প্রেসিডেন্ট-আদালতে মাদুরো

আজকাল বাংলা ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ম্যানহাটন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলেই দাবি করলেন নিকোলাস মাদুরো।

সোমবার আদালতে হাজির হয়ে তিনি বলেন, “আমি নির্দোষ। আমাকে ভেনেজুয়েলার কারাকাসে আমার বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়েছে। আমি একজন ভদ্র মানুষ। আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট। আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।”

নিজেকে ‘যুদ্ধবন্দি’ বলেও উল্লেখ করেছেন মাদুরো। আদালতে পড়ে শোনানো সব অভিযোগেই মাদুরো দোষ অস্বীকার করেছেন।

একইভাবে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডি ও মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও। দোভাষীর মাধ্যমে স্প্যানিশ ভাষায় তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেসবে তিনি দোষী নন।

নাটকীয়ভাবে গত শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে সস্ত্রীক মাদুরোকে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রে সেনাবাহিনী। এমন ঘটনায় স্তম্ভিত হয়েছে গোটা বিশ্ব। প্রতিবাদ জানিয়েছে একাধিক দেশ।

মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখার অভিযোগ দায়ের করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রশাসনের আরও অভিযোগ, মেক্সিকোর সিনালোয়া এবং জেটাস কার্টেল, কলম্বিয়ার এফএআরসি বিদ্রোহী এবং ভেনেজুয়েলার ত্রেন দে আরাগুয়ার মতো গ্যাংয়ের সঙ্গে সমন্বয়ে কোকেন পাচারে জড়িত মাদুরো।

মাদুরো বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। আদালতেও একই কথার প্রতিধ্বনি করেছেন তিনি। তার পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, মাদুরোর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

মাদুরো দম্পতিকে মার্কিন বাহিনী নিউ ইয়র্কে নেওয়ার পর থেকে ব্রুকলিনের আটককেন্দ্রে বন্দি ছিলেন তারা। সোমবার ভোরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদেরকে ম্যানহাটনের আদালতে নেওয়া হয়।

জেল থেকে প্রথমে হেলিকপ্টারে, তারপর সাঁজোয়া গাড়িতে করে আদালত চত্বরে পৌঁছান মাদুরো দম্পতি। আদালতের বাইরে এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং সমর্থনে মানুষের জমায়েতও দেখা গেছে।

স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস-সহ মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর সোমবারই প্রথম প্রকাশ্যে আদালতে তাদেরকে হাজির করানো হয়। নীল রঙের জেলের পোশাকে, স্প্যানিশ অনুবাদ শোনার জন্য হেডফোন পরিয়ে আদালতে তোলা হয় মাদুরোকে। তার স্ত্রীও একইসঙ্গে কাঠগড়ায় হাজির হন।

এই মামলাকে আন্তর্জাতিক দিক থেকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, এটি কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের বড় ধরনের ফৌজদারি মামলা।

তবে এই মামলার মুখেও মোটেই ভেঙে পড়েননি ভেনেজুয়েলার দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা মাদুরো। আদালতে দাঁড়ানোর পরও তার চোখে-মুখে আতঙ্ক বা ভয়ের লেশমাত্র দেখা যায়নি। বরং দেখা গেছে তার সেই চেনা জেদ।

বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাকে জোর করে ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে আনা হয়েছে। আমাকে বন্দি করা হয়েছে। আমি অপহৃত একজন প্রেসিডেন্ট।”

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি এদিন মাদুরোর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। সোমবার তারা দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তি দাবি করেছে।

তারা বলেছে, নিকোলাস মাদুরোকে ‘অপহরণ’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। একে তারা ‘বর্বরোচিত, বিশ্বাসঘাতক এবং কাপুরুষোচিত আক্রমণ’ আখ্যা দিয়েছে।

আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি সোমবার শেষ হওয়ার পর আগামী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ মার্চ। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে এ খবর জানানো হয়েছে। বিচারক তাকে সেদিনও আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ ‍দিয়েছেন।

প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram