

ইসলাম ডেস্ক:
ইসলামে মসজিদের সাজসজ্জার বিষয়ে মূল নীতি হলো সরলতা এবং পবিত্রতা বজায় রাখা। এ বিষয়ে কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. কুরআনের নির্দেশনা: কুরআনে সরাসরি মসজিদের কারুকাজ নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে মসজিদ নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে 'আল্লাহর জিকির' ও 'তাকওয়া'র ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সুরা আত-তাওবা (১৮): "তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনে..." আল-কুরআন ১৮:১৮। এখানে 'আবাদ' করার অর্থ হলো নামাজ ও ইবাদত দিয়ে মসজিদ জীবন্ত রাখা।
২. হাদিসের নির্দেশনা: রাসূলুল্লাহ (সা.) মসজিদের অতিরিক্ত সাজসজ্জা এবং চাকচিক্যকে নিরুৎসাহিত করেছেন, কারণ এটি মুসাল্লিদের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে।
অতিরিক্ত সাজসজ্জা কিয়ামতের আলামত: রাসূল (সা.) বলেছেন, "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না, যতক্ষণ না মানুষ মসজিদের সাজসজ্জা নিয়ে একে অপরের সাথে গর্ব করবে।" সুনানে আবু দাউদ: ৪৪৯।
মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়া: নবীজি (সা.) একবার কারুকাজ করা কাপড়ে নামাজ পড়ার পর তা সরিয়ে নিতে বলেন, কারণ এটি নামাজের একাগ্রতা নষ্ট করছিল সহীহ বুখারী: ৩৭৩। একইভাবে মসজিদের দেয়ালে অতিরিক্ত কারুকাজ নামাজির মনোযোগ নষ্ট করলে তা মাকরূহ হিসেবে গণ্য হয়।
৩. উলামাদের মতামত ও মূলনীতি:
সরলতা: মসজিদের নকশা এমন হওয়া উচিত যাতে তা ইবাদতের গাম্ভীর্য বজায় রাখে।
অপচয় বর্জন: মসজিদ নির্মাণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বিলাসিতা করা ইসলামে পছন্দনীয় নয়।
কেবলা ও মেহরাব: কেবলার দিকে বা মেহরাবে এমন কোনো নকশা বা ক্যালিগ্রাফি করা উচিত নয় যা নামাজের সময় মুসল্লির দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সারসংক্ষেপ:মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মজবুত রাখা সওয়াবের কাজ, কিন্তু ইহুদি-খ্রিস্টানদের অনুকরণে গির্জা বা উপাসনালয়ের মতো অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা করা অপছন্দনীয় বা মাকরূহ।
