ঢাকা
১০ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিকাল ৩:৪৪
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫
আপডেট: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে চিকিৎসা পদ্ধতি

ইসলাম ডেস্ক:

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে চিকিৎসা পদ্ধতি প্রধানত তিনটি ধারায় বিভক্ত ছিল: প্রাকৃতিক উপাদান, কায়িক পদ্ধতি এবং আধ্যাত্মিক নিরাময়। এই পদ্ধতিগুলো সম্মিলিতভাবে 'তিব্বে নববী' বা 'নববী চিকিৎসা' নামে পরিচিত। 

রাসূল (সা.)-এর যুগের প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. প্রাকৃতিক ও ভেষজ চিকিৎসা; রাসূল (সা.) বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবার ও ভেষজকে ঔষধ হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন: 

কালোজিরা: তিনি একে মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের মহৌষধ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মধু: পেট খারাপসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য তিনি মধুর শরবত ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন।

আজওয়া খেজুর: বিষক্রিয়া ও জাদুর প্রতিকার হিসেবে প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তালবিনা: যব, দুধ ও মধুর তৈরি এই মিশ্রণটি তিনি মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে সুপারিশ করতেন। ২. কায়িক বা শল্য চিকিৎসা পদ্ধতি:

হিজামা (Cupping): রক্তদূষণ রোধ ও ব্যথানাশ করতে রাসূল (সা.) হিজামা বা শিঙা লাগানোকে সর্বোত্তম চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রক্তমোক্ষণ (Phlebotomy): নির্দিষ্ট শিরা থেকে রক্ত বের করে শরীরের ভারসাম্য রক্ষার পদ্ধতিও প্রচলিত ছিল।

আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা (Cauterization): এটি সেকালে প্রচলিত থাকলেও রাসূল (সা.) অত্যাধিক যন্ত্রণাদায়ক হওয়ার কারণে একে অপছন্দ করতেন এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তা নিষেধ করেছেন। 

৩. আধ্যাত্মিক চিকিৎসা (রুকইয়াহ): কুরআন ও দুআ: অসুস্থতার সময় সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে শরীরে ফুঁ দেওয়া বা 'রুকইয়াহ' করা হতো।

মানসিক প্রশান্তি: দুআ ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে রোগীর মনোবল বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হতো। ৪. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধি: রোগের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো: 

পরিচ্ছন্নতা: "পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক"—এই মূলনীতির ভিত্তিতে মিসওয়াক ব্যবহার এবং নিয়মিত ওযুর মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হতো।

খাদ্যভ্যাস: পাকস্থলীর এক-তৃতীয়াংশ খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানি এবং এক-তৃতীয়াংশ বাতাসের জন্য খালি রাখার পরামর্শ দিয়ে পরিমিত আহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

কোয়ারেন্টাইন: মহামারী (যেমন প্লেগ) আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশ না করা এবং সেখান থেকে বের না হওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। 

রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, "আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার প্রতিষেধক তিনি তৈরি করেননি"। তাই তিনি সাহাবায়ে কেরামকে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে এবং যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করতেন। 

প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram