

ইসলাম ডেস্ক:
পবিত্র কোরআনে রাগ ও জেদের বিষয়ে সরাসরি "জিদ" শব্দটি ব্যবহার না হলেও, এর কাছাকাছি অর্থ বহনকারী শব্দ এবং ধারণাগুলি বিভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআন মুসলমানদেরকে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নমনীয়তা ও ক্ষমার নীতি অনুসরণ করার নির্দেশ দেয়।
এখানে রাগ ও জেদ বিষয়ক পবিত্র কোরআনের কিছু উল্লেখযোগ্য শিক্ষা তুলে ধরা হলো:
রাগ নিয়ন্ত্রণ:কোরআন মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে রাগকে নিয়ন্ত্রণ করার গুরুত্ব আরোপ করে।
সূরা আলে ইমরান (৩:১৩৪): এই আয়াতে মুত্তাকীদের (খোদাভীরুদের) গুণাবলীর মধ্যে একটি হলো, তারা "রাগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল হয়" আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।
জেদ ও একগুঁয়েমি কোরআনে একগুঁয়েমি বা জেদকে সাধারণত নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে যখন এটি সত্যকে মেনে নিতে বাধা দেয়।
সত্য প্রত্যাখ্যানের জেদ: অনেক আয়াতে অবিশ্বাসীদের একগুঁয়ে মনোভাবের কথা বলা হয়েছে, যারা সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরেও তা মেনে নিতে অস্বীকার করে । তাদের এই জেদ তাদের পথভ্রষ্টতার কারণ হয়।
হকের প্রতি নমনীয়তা: কোরআন বিশ্বাসীদেরকে হকের (সত্য) ব্যাপারে বিনয়ী ও নমনীয় হতে উৎসাহিত করে এবং অকারণে বিতর্কে না জড়িয়ে আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অনুগত থাকার কথা বলে।
ক্ষমার গুরুত্ব: রাগ ও জেদের বিপরীতে কোরআন ক্ষমা এবং ধৈর্যের শিক্ষাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়:
সূরা শুরা (৪২:৪৩): "আর যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ় সংকল্পের কাজের অন্তর্ভুক্ত"। এটি রাগ দমন করে ক্ষমা করার প্রতিদান হিসেবে বর্ণিত।
সূরা ফুসসিলাত (৪১:৩৪): "ভালো কাজ এবং মন্দ কাজ এক সমান হতে পারে না। [মন্দ কাজকে] উত্তম দ্বারা প্রতিহত কর, ফলে তোমার ও যার মাঝে শত্রুতা ছিল, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যাবে" এই আয়াতটি রাগের সময় প্রতিশোধ না নিয়ে বরং সদয় আচরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল শেখায়।
সারসংক্ষেপে, পবিত্র কোরআন রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে, ক্ষমাকে অবলম্বন করতে এবং সত্যের ব্যাপারে জেদ পরিহার করে নমনীয় হওয়ার নির্দেশ দেয়।
