ঢাকা
১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ১০:০২
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের একনেক অনুমোদন চলতি সপ্তাহে


‎ম.ম.রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট।।

‎বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চলতি সপ্তাহে একনেক অনুমোদনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

‎বাগেরহাটের রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ৯১৮ দশমিক ৫ একর অব্যবহৃত জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে এবং এ সংক্রান্ত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিপিডিবির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমের ভাষ্যমতে, ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটির জন্য নির্ধারিত জমিতে ইতিপূর্বে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে এটি বাস্তবায়িত হবে। দুই হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেশের সামগ্রিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

‎প্রকল্প এলাকায় ইতিমধ্যে জমি ভরাট এবং সীমানা সুরক্ষাসহ প্রাথমিক সাইট উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় স্পষ্ট হয়েছে যে, বিদ্যমান অবকাঠামো এবং অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের ফলে সামগ্রিক নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। তাছাড়া, এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ফেনীর সোনাগাজীর ৮ টাকা ৮৭ পয়সা ট্যারিফের তুলনায় প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশ কম। বিআইএফপিসিএলের সাবস্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত নতুন ২৩০ কিলোভোল্ট সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম একে বাংলাদেশের পরিবর্তিত জ্বালানি অগ্রাধিকারের সঠিক প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন যে, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসে এটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

‎সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারক ও পরিবেশবিদদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল অর্থনৈতিক দিক থেকেই সাশ্রয়ী নয়, বরং এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিবেশগত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত বিশ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি সেই লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি প্যারিস চুক্তির শর্ত প্রতিপালন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যান (আইইপিএমপি)-২০২৩ বাস্তবায়নে সরাসরি সহায়তা করবে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাসের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে, যা বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ওপর সম্ভাব্য পরিবেশগত চাপ অনেকাংশে লাঘব করবে। দেশের জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও অভিঘাত সহনশীল একটি রূপরেখা তৈরি করতে এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram