

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নে অস্তিত্বহীন ৭৪ শিশুর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নিবন্ধন সহকারী) আবুল বাছেরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, অস্তিত্বহীন এসব শিশুকে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু দেখিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও পরে বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নিবন্ধন সহকারীর ক্ষমতা প্রত্যাহারসহ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিডিআরআইএস (BDRIS) সিস্টেমের তথ্য পর্যালোচনায় চররমনী মোহন ইউনিয়নে ৭৪টি শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যায়। তবে এসব শিশুর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নিবন্ধন সহকারী) আবুল বাছেরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ডেপুটি জেনারেল (যুগ্মসচিব) মো. লুৎফুর রহমানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে নিবন্ধন সহকারীর ক্ষমতা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত আবুল বাছের বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নিবন্ধন সহকারী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে অস্তিত্বহীন ব্যক্তির তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম। বিশেষ করে ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থায় এ ধরনের ভুয়া তথ্য প্রবেশ করানো হলে ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচয়, নাগরিক সেবা, শিক্ষা, পাসপোর্ট, উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ৭৪টি অস্তিত্বহীন শিশুর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না এবং এর পেছনে কোনো আর্থিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব নিবন্ধন তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
