

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী পেশাকে টিকিয়ে রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ১০ দিনব্যাপী পেশাভিত্তিক সফটস্কিলস প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ জন প্রান্তিক পেশাজীবীর প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা, ১৮ হাজার টাকা এককালীন আর্থিক অনুদান এবং প্রশিক্ষণের সনদপত্র। দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি এ আর্থিক সহায়তা তাদের নিজ নিজ পেশায় নতুন উদ্যমে কাজ করার সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (দ্বিতীয় ফেইজ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার প্রান্তিক পেশাজীবীদের জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক স্বপন কুমার হালদার, সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শরীফ হোসেনসহ প্রশিক্ষণার্থীরা।
প্রকল্পের আওতায় সমাজের ১০ শ্রেণির প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীকে এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন কামার, কুমার, নাপিত, বাঁশ ও বেতের পণ্য প্রস্তুতকারী, কাঁসা ও পিতলের পণ্য প্রস্তুতকারী, নকশীকাঁথা ও শতরঞ্জি প্রস্তুতকারী, জুতা মেরামতকারী, লোকজ শিল্পী এবং লোকজ যন্ত্রশিল্পী।
১০ দিনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ পেশার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সফটস্কিলস, কর্মদক্ষতা, যোগাযোগ ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত জনগোষ্ঠীকে আধুনিক কর্মপরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের আয় ও জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করাই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা এবং ১৮ হাজার টাকা এককালীন আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের হাতে প্রশিক্ষণের সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে অনেক ঐতিহ্যবাহী ও লোকজ পেশা নানা সংকটের মুখে পড়েছে। পর্যাপ্ত পুঁজি, আধুনিক দক্ষতা ও বাজারব্যবস্থার অভাবে এসব পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। তাদের দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে প্রান্তিক পরিবারগুলোর জীবনমানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা এ সহায়তা কাজে লাগিয়ে নিজেদের পেশার উন্নয়ন, আয় বৃদ্ধি এবং পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
