

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর | ৫ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করেছে জেলা প্রশাসন, ফরিদপুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ফরিদপুর হাউজিং এস্টেট স্কুল এন্ড কলেজ। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানে চিত্রাঙ্কণ ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ইতিহাসচর্চা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।
সকালে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কণ ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, স্বাধীনতা, দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্নকে তাদের চিত্র ও লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
পরে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদপুর হাউজিং এস্টেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাহামুদুল হাসান-এর সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক অভি রহমান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক আকাশ সাহা, সুব্রত মালো, শাহাজাদা মোল্লা, জাকিয়া নাসরিন, জামিল আহমেদসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি এ দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের ন্যায়, অধিকার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাধারণ মানুষ অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—সবগুলোই মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একই সূত্রে গাঁথা। এসব আন্দোলনের মূল শিক্ষা হলো অন্যায়, দুর্নীতি, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোঃ মাহামুদুল হাসান বলেন, "জুলাইয়ের চেতনা কেবল একটি দিনের স্মৃতি নয়; এটি ন্যায়, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার অনুপ্রেরণা। শিক্ষার্থীদের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক, সুনাগরিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু পাঠদান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ ঘটানো।"
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের জন্য এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে এবং জাতীয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ। এ সময় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাসচর্চা, দেশপ্রেম, সৃজনশীলতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার প্রেরণা জোগাবে।
