

আবু তাহের, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় মাদক কারবারিদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘মাদক প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলার ২নং ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারিদের আনাগোনা ও তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এক মতবিনিময় ও কমিটি গঠন সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২নং ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফারুক হোসেন মন্ডল।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মন্ডল বলেন, এলাকায় মাদক কারবারিদের আনাগোনা ব্যাপকভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে অতিদ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল সরকার বলেন, ভরতখালী ইউনিয়নকে যেকোনো মূল্যে মাদকমুক্ত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষায় গভীর রাতে, বিশেষ করে রাত ১০টার পর উল্যাবাজারে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর নজরদারি বৃদ্ধির তাগিদ দেন তিনি। একই সাথে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় বক্তব্য রাখার জন্য স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিবদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
সভায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা একাত্মতা প্রকাশ করেন। ভরতখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. শওকত মির্জা রোস্তম বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত করতে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকসেবীদের বেপরোয়া আচরণের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামাজিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) পক্ষে উপস্থিত সাব—ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. মিথুন জানান, মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে তিনি স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে তথ্যগত সহযোগিতা কামনা করেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এস.কে.এস—এর প্রতিনিধি আল মাবুদ মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণার ওপর জোর দেন।
এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিক ইয়ামিন হাসানকে সম্প্রতি একটি মহল হুমকি প্রদান করে বলে সভায় জানানো হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইয়ামিন হাসান ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা চেয়ে সাঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেছেন।
সাংবাদিককে এই হুমকির ঘটনার পর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাদক প্রতিরোধে এমন কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সভায় ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মন্ডল সাংবাদিককে হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি তোলেন। এদিকে, সাংবাদিক হেনস্থার এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’ গাইবান্ধা জেলা শাখা। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের এমন সাহসী ভূমিকার পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ইউনিয়ন পরিষদের এই মাদকবিরোধী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।
ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রওশন আলম, ইউপি সদস্য ও সাংবাদিক এস এম মিজানুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল হান্নানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভাটি এলাকায় মাদক নির্মূলে একটি মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মাধ্যমে সাঘাটায় মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।
