

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আলোচিত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৪) হত্যা মামলায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) ভোররাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শিক্ষক শরীফুল ইসলাম এবং শিক্ষার্থী সাজিদুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এ নিয়ে মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী, স্বজন ও স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ, থানা ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। আন্দোলন এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এর আগে গত ১৬ জুন বিকেলে রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে পিঠ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়।
নিহত মেহেদী রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। ঘটনার দুই দিন পর, ১৮ জুন, তার বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান ও সাতজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি আইফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও মারধরের জেরে মেহেদীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নানকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয় এবং জ্যেষ্ঠ প্রভাষক শরীফুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
