

দীর্ঘ তিন বছরের আইনি ও নীতিগত লড়াই শেষে বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য পুনরুদ্ধার করেছে আদানি গ্রুপ। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের সেই বিতর্কিত রিপোর্টের ধাক্কা এবং সব ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে শেয়ার বাজারে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে গ্রুপটি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির মালিকানাধীন এ বহুজাতিক শিল্পগোষ্ঠীর এ ধরনের প্রত্যাবর্তন শুধু ভারতের বাজারেই নয়, বরং বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক দিক।
গ্রুপটির সাফল্যে পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে আদানির তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান 'আদানি পাওয়ার'। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী এ প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বাজার মূলধন ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। চলতি বছরেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ।
আদানি পাওয়ার চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে বাংলাদেশে। যা দেশের জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। আদানির ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
২০২৩ সালে হিন্ডেনবার্গের সেই কর্পোরেট অনিয়ম ও জালিয়াতির রিপোর্টের পর প্রায় ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল আদানি গ্রুপের মালিকানাধীন নয়টি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সেই বিপুল ক্ষতি এখন পুরোপুরি পুষিয়ে নিয়েছে আদানি। এতে গ্রুপটির সম্মিলিত বাজার মূল্য এখন দাড়িয়েছে প্রায় প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কিছু আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ আদানির এই ঘুরে দাঁড়ানোকে ত্বরান্বিত করেছে। বিশেষ করে মার্কিন বিচার বিভাগ আদানির বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ তুলে নেওয়ার পর বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে ‘ক্যাপিটাল গ্রুপ’-এর মতো বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আদানি গ্রুপে নতুন করে বড় বিনিয়োগ শুরু করেছে। অন্যদিকে, ভারতের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তেও হিন্ডেনবার্গের দাবির সপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ মেলেনি।
