ঢাকা
২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১২:২২
প্রকাশিত : জুন ২২, ২০২৬
আপডেট: জুন ২২, ২০২৬
প্রকাশিত : জুন ২২, ২০২৬

ভোটের বাঁশি না বাজতেই লক্ষ্মীপুরে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ: গণতন্ত্রের প্রস্তুতি নাকি আগাম প্রচারণা ?

এস এম আওলাদ হোসেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ কিংবা অন্যান্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি জনগণের জীবনযাত্রা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সেবাপ্রদান ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত। 

তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক তৎপরতা নতুন কিছু নয়। তবে ভোটের তফসিল ঘোষণা বা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বাঁশি বাজার আগেই যখন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়, তখন তা নানা প্রশ্নেরও জন্ম দেয়।

লক্ষ্মীপুরের ছয়টি উপজেলায় ইতোমধ্যে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের মাঠে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় আয়োজন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, উন্নয়নমূলক সভা কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন, আবার কেউ নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হতেই হঠাৎ করে জনগণের দ্বারে দ্বারে উপস্থিত হচ্ছেন।

গণতন্ত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ অবশ্যই ইতিবাচক। যোগ্য, সৎ এবং জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিরা নির্বাচনে আসবেন—এটাই জনগণের প্রত্যাশা। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি জনসেবার চেয়ে ব্যক্তিগত প্রচারণা ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়। এতে অর্থের অপচয় বাড়ে, সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি হয় এবং নির্বাচনী পরিবেশ অঘোষিতভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের সমস্যা সমাধানে দক্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক প্রার্থী নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে গেলেও নির্বাচনের পর সেই সম্পর্ক আর বজায় থাকে না। ফলে ভোটারদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়। জনগণ এখন শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না; তারা প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড, সততা, জবাবদিহিতা এবং জনসেবার বাস্তব উদাহরণ দেখতে চায়।

লক্ষ্মীপুরের মতো সম্ভাবনাময় একটি জেলায় স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীভাঙন, বেকারত্ব, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনপ্রতিনিধির প্রয়োজন। তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণার পরিবর্তে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।

একই সঙ্গে প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে যেন আগাম প্রচারণা, অর্থের প্রভাব, পেশীশক্তির প্রদর্শন কিংবা আচরণবিধি লঙ্ঘনের সংস্কৃতি শুরুতেই নিরুৎসাহিত করা যায়। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসুক, তা যেন প্রতিযোগিতার পরিবর্তে জনসেবার অঙ্গীকারে পরিণত হয়।

সবশেষে বলা যায়, ভোটের বাঁশি বাজার আগেই মাঠে নামা দোষের কিছু নয়, যদি সেই তৎপরতা জনসেবামূলক হয়। তবে জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা মুখের বুলি নয়, কাজের হিসাব দেখতে চায়। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনে রাখা উচিত—নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চেয়েও বড় বিষয় হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা। আর সেই আস্থা অর্জিত হয় পোস্টার, ব্যানার কিংবা শোডাউনে নয়; অর্জিত হয় সততা, কর্ম এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram