

আবু তাহের,গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ সার্ভিসেস ট্রেনিং অ্যান্ড এডুকেশন প্রোগ্রাম (আরএইচস্টেপ) এর উদ্যোগে সোমবার বিকেলে ফার্মেসির মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে ঔষধের মাধ্যমে মাসিক নিয়মিতকরণ মেনস্ট্রুয়াল রেগুলেশন উইথ মেডিকেশন (এমআরএম) বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাইবান্ধা শহরের দেশি ভোজ কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন ফার্মেসির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এবং সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আরএইচস্টেপ ক্লিনিক অ্যান্ড আলোরধারা পাঠশালার ইয়ুথ অফিসার মোঃ তাজবিউল ইসলাম।
পরে আরএইচস্টেপের পরিচিতি, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং দেশব্যাপী পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থাপনা করেন আরএইচস্টেপের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (প্রোগ্রাম) তৌসিন আহমেদ সোহেল । তিনি প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরএইচস্টেপের দীর্ঘদিনের অবদান, সেবামূলক কার্যক্রম এবং নারী, কিশোরী ও যুববান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সংগঠনটির ভূমিকা তুলে ধরেন।
কর্মশালার মূল উপস্থাপন ও আলোচনায় ছিলেন ঢাকা আরএইচস্টেপ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) ডাঃ এলভিনা মুস্তারী। তিনি এমআরএম-এর আইনগত ও নীতিগত কাঠামো, জাতীয় নির্দেশিকা, মিফেপ্রিস্টোন ও মিসোপ্রোস্টল ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতা, রোগী ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি নিরাপদ ও তথ্যভিত্তিক সেবা নিশ্চিতকরণে ফার্মেসি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আরএইচস্টেপ ক্লিনিক অ্যান্ড আলোরধারা পাঠশালার ইউনিট ম্যানেজার মোঃ এনামুল হক, কাউন্সেলর কাম প্যারামেডিক মোছাঃ রুজিনা বেগম প্রমুখ।
বক্তারা নিরাপদ মাতৃত্ব, পরিবার পরিকল্পনা, মাসিক নিয়মিতকরণ, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং কাউন্সেলিং কার্যক্রম সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন। তারা বলেন, নিরাপদ এমআরএম সেবা, যথাযথ তথ্য প্রদান, গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দক্ষ সেবা প্রদানকারীর নিকট রেফার করার বিষয়ে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। তারা বলেন, ফার্মেসি মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিরাপদ ও তথ্যভিত্তিক এমআরএম সেবা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। তাদের সক্রিয় সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে নারীদের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত এবং অধিকারভিত্তিক প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
