

এস এম আওলাদ হোসেন। সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
রাজনীতিতে ত্যাগ, আদর্শ ও সাংগঠনিক নিষ্ঠা—এই তিনটি গুণই একজন নেতাকে কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় যারা দুঃসময়ে দলের পাশে থাকেন, সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেন এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনকে আগলে রাখেন, তারাই প্রকৃত অর্থে দলের সম্পদ।
লক্ষ্মীপুরে অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমানকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার দাবির পেছনেও রয়েছে এমন বাস্তবতা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে জেলা বিএনপির কঠিন সময়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা কিংবা সাংগঠনিক সংকট—সবক্ষেত্রেই তিনি দলের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। অথচ ব্যক্তিগত পদ-পদবি কিংবা সুবিধা লাভের জন্য তাকে কখনো প্রকাশ্যে তৎপর হতে দেখা যায়নি। এ ধরনের নেতৃত্ব রাজনীতিতে আজ ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। একটি রাজনৈতিক সংগঠনের শক্তি নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আস্থা ও ঐক্যের ওপর।
যখন কোনো নেতা কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন, তখন তাকে মূল্যায়ন করা শুধু ব্যক্তিকে সম্মান জানানো নয়; বরং সংগঠনের ভেতরে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে উৎসাহিত করারও একটি বার্তা। এতে নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীরাও আদর্শিক রাজনীতিতে আগ্রহী হন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়, ত্যাগী নেতাদের চেয়ে সুযোগসন্ধানীরা বেশি সুবিধা পেয়ে যায়। এতে দলের ভেতরে হতাশা তৈরি হয় এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা বাড়ে। তাই যে কোনো রাজনৈতিক দলের উচিত, পদ বণ্টনে ব্যক্তিগত লবিং বা প্রভাবের চেয়ে কর্মীদের মতামত, রাজনৈতিক অবদান ও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া।
লক্ষ্মীপুর বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা যে দাবি তুলেছেন, সেটি কেবল একজন ব্যক্তিকে পদ দেওয়ার আহ্বান নয়; বরং দলীয় রাজনীতিতে ত্যাগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি চাওয়ারও প্রতিফলন। এখন সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। তবে তারা যদি সত্যিই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করতে চান, তাহলে তৃণমূলের প্রত্যাশা ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়াই হবে সময়ের দাবী
