

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মোল্লারহাট গরুর হাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত থাকার মধ্যে ‘খাস’ আদায়ের নামে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হাট বসানো এবং নিয়মবহির্ভূত রশিদে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বাহার আলী মোল্লারহাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাবেক ইজারাদার হারুনুর রশিদ হাওলাদারের নিজস্ব জমিতেই হাট বসানো হয়েছে। তার নিয়োগ করা লোকজন টেবিল বসিয়ে পশুপ্রতি হাসিল আদায় করছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চরবংশী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়কও।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন ও সাবেক ইজারাদারের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে হাট থেকে অর্থ লোপাটের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তারা জানান, জেলায় অন্যতম বড় এই পশুর হাটে প্রতি হাটে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায় হয়। হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গরু থেকে প্রায় ২ হাজার টাকা এবং ছাগল থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
তবে এই আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রশিদে রয়েছে নানা অসংগতি। রশিদে জমির মৌজা, খতিয়ান, দাগ নম্বর বা জমির পরিমাণের কোনো উল্লেখ নেই। এমনকি রশিদে ক্রমিক নম্বর কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সিলমোহরও দেখা যায়নি। হাটে আসা ক্রেতারা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে। এতে পশুর দামও বেড়ে যাচ্ছে বলে তারা জানান। ইজারার সর্বোচ্চ দরদাতা মনির হোসেন বলেন, “আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও আমাকে ইজারা না দিয়ে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এখন খাস আদায়ের নামে অনিয়ম চলছে।
” অন্যদিকে সাবেক ইজারাদার হারুনুর রশিদ হাওলাদার বলেন, “আমার জমিতে হাট বসানো হয়েছে। প্রশাসন আমাকে এর জন্য ভাড়া দেবে, তবে ভাড়ার পরিমাণ এখনো নির্ধারণ হয়নি।” সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাটটির সীমানা নির্ধারণ না করেই ইজারা দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এতে মনির হোসেন সর্বোচ্চ দরদাতা হন। তবে প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে ছয় মাসের জন্য ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাওছার বলেন, “রিটের প্রেক্ষিতে আদালতের স্থগিতাদেশ আসায় ইজারা কার্যক্রম বন্ধ করে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রশিদে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করা হবে।” তবে আদায়ের পরিমাণ বা নির্ধারিত হার সম্পর্কে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মোল্লারহাট গরুর হাটের ইজারা দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬৫ লাখ টাকা। বর্তমানে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে সেখানে খাস আদায়ের কার্যক্রম চালু রয়েছে।
