

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
প্রস্তাবিত নতুন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণাকে ঘিরে বশিকপুর ইউনিয়নে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাতেই যুক্ত থাকার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, বশিকপুর ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে সদর উপজেলার সঙ্গে প্রশাসনিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসায়িকভাবে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। হঠাৎ করে এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। তাদের আশঙ্কা, নতুন উপজেলা হিসেবে চন্দ্রগঞ্জে শুরুতে পর্যাপ্ত সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো গড়ে উঠতে সময় লাগবে। এতে নাগরিক সেবা পেতে বিলম্ব ও বঞ্চনার শিকার হবেন তারা। যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও সদর উপজেলাকে অধিক সুবিধাজনক বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরাসরি সদর উপজেলায় যাতায়াত সম্ভব হলেও চন্দ্রগঞ্জে যেতে একাধিকবার যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়, যা সময় ও অর্থের অপচয় বাড়াবে। এলাকাবাসী আরও দাবি করেন, প্রস্তাবিত সংযুক্তি জনমতের প্রতিফলন নয়। অধিকাংশ মানুষ সদর উপজেলায় থেকেই সেবা নিতে আগ্রহী। জেলা শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় সদর উপজেলায় থাকা প্রশাসনিকভাবে বেশি কার্যকর বলেও মত দেন তারা।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও সদর উপজেলাকে এগিয়ে রাখছেন স্থানীয়রা। সরকারি কলেজ, হাসপাতাল ও জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো সদরেই অবস্থিত, যা নতুন উপজেলায় অনুপস্থিত। মানসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও সদরকেন্দ্রিক সংযোগের কথা তুলে ধরে তারা বলেন, দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হলে মানুষের সামাজিক বন্ধন ও পরিচয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এছাড়া নতুন উপজেলা গঠনের ফলে সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলেও মত দেন তারা। তাদের মতে, বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। বশিকপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাতেই বহাল থাকার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে চন্দ্রগঞ্জ থানা থেকে পুনরায় সদর থানায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
