

আবু তাহের, স্টাফ রিপোর্টার :
গাইবান্ধার সাঘাটায় নদী তীর প্রতিরক্ষার কাজে সকল ঠিকাদারি সাইডের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নদী শাসনের কাজে সিসি ব্লক বসানোর সময় ব্লকের নীচে ইটের খোঁয়ার পরিবর্তে রাবিশ, ছেঁড়া জিও ম্যাটের উপর ব্লক বিছানো ও নদীতে জিও ব্যাগ ফেলানো নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই।
বিধি বহির্ভূত ভাবে সিসি ব্লক প্লেচিং, জিও ব্যাগ ডাম্পিংসহ নিম্ন মানের ইটের খোয়া, রাবিশ ও বালু দিয়ে কাজ করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকির দায়িত্বে থাকা এসও, এসডিও এবং প্রধান প্রকৌশলীর নজরে পড়ে না। তবে সাধারন জনগণের চোখে তা ঠিকই ধরা পড়ছে। প্রতিটি সাইডে পাউবোর তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীদের স্বজনপ্রীতি ও গাফিলতির কারনেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছেমত কাজ করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের ব্লক নদী শাসনের কাজে লাগানোর কথা থাকলেও শত শত ব্লক, জিও ব্যাগ নদীকূলের আশেপাশের মানুষের বাড়িঘরে ও বাড়ির চারপাশ দিয়ে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের ব্লক নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো মাথা ব্যাথা নেই। যে যার বাড়ির ও ঘরের চারপাশে ব্যবহার করছে।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলানোর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের গুণগত মান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও পাউবো গাইবান্ধার তদারকি বাড়ায়নি। ফলে জনমনে পাউবোর দায়িত্ব পালন নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে! জানা গেছে, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা, ঘুড়িদহ ও হলদিয়া ইউনিয়ন বেষ্টিত যমুনা নদীর ডান তীর নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার তত্বাবধানে কয়েক শত কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে সরকার। বর্তমানেও বেশ কয়েকটি সাইডে জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লকের কাজ চলছে।
সে সব সাইডের কাজে চলছে ব্যাপক অনিয়ম। যা হরিলুট বললে বেশি বলা হবে না বলে জানান স্থানীয় অনেকেই। স্থানীয়দের অভিযোগের পর, বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন সাইডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যে নিয়মে সিসি ব্লক প্লেসিং করার কথা তা হচ্ছে না। নিম্নমানের ইটের গুড়ো খোয়া রাবিশ বিছিয়ে তার উপরে ব্লক বসানোর কাজ করছে। কোথাও ব্লকের মাঝখানে বেশ ফাঁকা। অনেক ব্লকের কোণা ভাঙ্গা। জিও ব্যাগ ও ব্লক তৈরির কাজের বালি নিয়েও অভিযোগ থাকলেও সেসবের তোয়াক্কা না করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মন গড়া কাজ করছে। নিম্নমানের কাজে কেউ বাঁধা দিলে তাদেরকে মামলার হুমকি ধামকি ও হেনস্থার ভয় দেখাচ্ছে।
ফলে অনেকেই তাদের কাজের অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এসব অনিয়ম নিম্নমানের কাজ করছে সাইডে কর্মরক শ্রমিকরা। তবে সেখানে পাউবোর কোনো তদারকি অফিসারকে বা প্রকৌশলীদের দেখা যায়নি। তদারকির দায়িত্ব পাউবোর লোক সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলেন, তারা আসেননি। অথচ পুরোদমে অনিয়মের মাধ্যমেই কাজ চলছে। নদীতে জিও ব্যাগ ফেলছে প্লেচিং এর ১০ মিটার মধ্যে কেহ নদীর মাঝখানে সিডিউল বহির্ভূত । জিও ব্যাগে বালু ভরানোর পর কাউন্ট করার পরেই দায়িত্ববানদের সামনেই নদীতে ফেলানোর নিয়ম থাকলেও তা করে না। কখনো গণনাকৃত জিও ব্যাগ থেকে এক শ্রেণীর স্থানীয় সাব ঠিকাদারেরা বালু ফেলে দিয়ে সেই জিও ব্যাগ স্বল্পদামে বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
