ঢাকা
৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সন্ধ্যা ৬:০৪
প্রকাশিত : মে ২, ২০২৬
আপডেট: মে ২, ২০২৬
প্রকাশিত : মে ২, ২০২৬

‎বাগেরহাটে অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে ক্ষেতের ফসল, কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ

‎বাগেরহাটে বোরো মৌসুমের উঠতি সময়ে টানা ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও রোদহীন আবহাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে আগাম ধান কাটা শুরু করলেও হঠাৎ টানা তিন দিনের অতিবৃষ্টিতে শেষ রক্ষা হয়নি। জেলার ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে আবাদ হওয়া বোরো ধানের বড় একটি অংশ এখনও মাঠে আছে। কোথাও কাটা ধান ভিজে নষ্ট হয়েছে, কোথাও জমিতে পানিতে তলিয়ে গেছে।

‎জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক বৃষ্টির আগে ধান কাটলেও রোদের অভাবে তা শুকাতে পারছেন না। আবার যারা ধান কাটতে পারেননি, তাদের ক্ষেতেই জমেছে বৃষ্টির পানি। এতে ধান ঝরে পড়া, পচন ধরা ও উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

‎টানা তিন-চার দিনের বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বাগেরহাটের বোরো ফসল। জেলার প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে পড়েছে, যার ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক।

‎বাগেরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে ৭৩ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হলেও এর অর্ধেকের বেশি এখনো মাঠে রয়েছে। এমন অবস্থায় টানা বৃষ্টি, রোদহীন আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতায় ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা আরও বাড়ছে।

‎মৌসুমের শেষ সময়ে সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিতে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায়। কোথাও কাটা ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, কোথাও আবার রোদের অভাবে শুকানো যাচ্ছে না।

‎বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে অনেক কৃষক আগাম ধান কাটলেও অধিকাংশই শেষ করতে পারেননি। ফলে মাঠে পড়ে থাকা ধান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কাটা ধানও ভিজে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে।

‎কচুয়া উপজেলার কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। ফলন ভালো হলেও বৃষ্টিতে অর্ধেক ধান কাটতে পারিনি। এক লাখ টাকা খরচ করে এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।
‎আরেক কৃষক সাকিব জানান, ধান কেটে রেখেছিলাম, কিন্তু রোদ না থাকায় শুকাতে পারিনি। টানা বৃষ্টিতে জমি পানির নিচে চলে গেছে কি করব বুঝতে পারছি না।
‎বক্কর হাওলাদার বলেন, সকালে ধান আনার কথা ছিল, কিন্তু বৃষ্টিতে সব পানির নিচে। কিছুই বাঁচানো যায়নি।

‎কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর তথ্যমতে, জেলায় প্রায় ২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির ১২ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টন ধান নষ্ট হয়েছে। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এতে অন্তত ১২ হাজার ৫শ’ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

‎কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে অন্তত ১০ শতাংশ ধান ঝরে যেতে পারে।

‎উপ-পরিচালক মোঃ মোতাহার হোসেন জানান, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

‎প্রকৃতির অনিশ্চয়তায় বারবার হার মানছে কৃষকের ঘামঝরা পরিশ্রম। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা দ্রুত আবহাওয়া স্বাভাবিক হোক এবং সরকারি সহায়তায় যেন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ মেলে। নচেৎ, সোনালি ধানের স্বপ্নই হয়ে উঠবে লোকসানের গল্প।‎

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram