

আবু তাহের, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ডিজেল পাম্পে চাহিদার চেয়ে তেল জোগান কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছে পাম্পের লোকজন। ৯ হাজার লিটার ডিজেল তেল দিয়ে চাহিদার ৩০ ভাগ ও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
চাহিদামত ডিজেল না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তেল নিতে আসা কৃষক, নৌকা মালিক, ট্রাক্টর চালকসহ অনেকের সাথে সার্বক্ষণিক পাম্পের দায়িত্বরতদের বাকবিতন্ডা করতে দেখা যায় ।
সাঘাটা উপজেলার জন্য ডিজেল তেলের চাহিদা বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি ভুক্তভোগীদের।
চাহিদামত ডিজেল না পাওয়ায় তেল সংগ্রহে আগত কৃষক, নৌকা মালিক, ও ট্রাক্টর চালকদের শুধু অভিযোগ আর অভিযোগের পাহাড়!
আজ শনিবার দুপুরে জুমারবাড়ি তেল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, কমপক্ষে ১ হাজারের অধিক মানুষ তেলের খালি ঢোপ নিয়ে রোদের মাঝে কেহ বসে কেহ দাঁড়িয়ে পাম্পের নাগালের অপেক্ষায় আছে।
পাম্পের সামনে মানুষের ভিড় সামলাতে সাঘাটা থানা পুলিশকেও দেখা যায়। অনেকেই ১০ লিটার তেল চাহিদার চারভাগের একভাগ ও নয় বলে পাম্পের লোকজনের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ে পড়ছে।
শুধু পুরুষ নয়, তেল নিতে অনেক নারীকে আলাদা লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখা যায়। চাহিদামত তেল না পেয়ে তাদেরকেও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা যায়।
ডিজেল নিতে আসা লোকজনের চিৎকারে পাম্প এলাকা এক অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে দেখা যায়। যা পুলিশ সামলাতেও বেগ পেতে হয়।
জেলা প্রশাসনের দেয়া তদারকি অফিসারকে যেখানে তেল বিতরণ হচ্ছে সেখানে দাঁড়ানো দেখা যায়।
হলদিয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়ি চরের ট্রাক্টর মালিক শহিদুলকে বলতে শোনা যায় যে আমরা ১০ লিটার তেল নিয়ে কি করবো। যেখানে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ লিটার তেল প্রয়োজন। তারা এ প্রতিনিধিকে জানান, ডিজেল অভাবে পাটের জমি চাষ করতে পারছিনা। আমাদেরকে বেশি করে তেল দিলে ভালো হবে। বেশি করে তেল না দিলে কৃষক মহাবিপাকে পড়বে। আমরা জমি চাষ করে দিতে পারছিনা ডিজেল অভাবে।
নৌকা ঘাটের মালিকরাও এমনি অভিযোগ করেন। ডিজেল অভাবে তাদের খেয়ার নৌকা পারাপারে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে ছাত্র ছাত্রী, হাটুরেদের পারাপারে সমস্যা হচ্ছে।
তারা আরো বলেন তেল সংগ্রহ করতে যদি দিন পেরিয়ে যায়। নৌকা চালাবো কখন। সরকারের থেকে নেয়া খেয়া ঘাটে সঠিক সময়ে আর পারাপার করানো সম্ভব হচ্ছে না।
ব্যক্তিগত নৌকা মালিকদের ও একই ধরণের অভিযোগ শোনা যায়। তারা বলেন, আমাদের নৌকা মালিকদের তেল আলাদা লাইনে দেয়া হোক।
ইরি ধান চাষিদের অভিযোগ আর মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন ধানের জমিতে পানি দেওয়া লাগবে। কিন্তু ডিজেল তেলের অভাবে স্যালোমেশিন বন্ধ রয়েছে। তেলের অভাবে ধানের জমির চাহিদামত পানি সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হবার আশংকা দেখা দিয়েছে।
তাদের অনেকের সাথে কথা বললে জানা যায়, ভোর ৬ টা বা সকাল সাতটা থেকে ডিজেল সংগ্রহ করার জন্য এসে লাইনে দাঁড়িয়েছে ।
জানা যায়, তাহারা কেউ এসেছে ইসলামপুর থানা থেকে, কেহ ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে, কেহ বা এসেছে পার্শ্ববর্তী সোনাতলা থেকে। আবার সাঘাটা উপজেলার লোকজন তো আছেই।
পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনে তেল নিতে আসা লোকজন জানান, পাম্পে প্রতি গ্রাহককে ১০ লিটার করে তেল দিচ্ছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
পাম্পের ম্যানেজার আবদুল বারীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, বর্তমানে মানুষের চাহিদার চেয়ে ডিজেল কম পাচ্ছি। ৯ হাজার লিটার তেল দিয়েও চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আপনারা একঘন্টা অপেক্ষা করে দেখেন, আমাদের কোনো অনিয়ম আছে কিনা। অনিয়ম চোখে পড়লে ধরিয়ে দিন। তাতে যে কোনো শাস্তি মেনে নিব।
তেল চাহিদা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাঘাটা, ফুলছড়ি, ইসলামপুর ও পার্শ্ববর্তী সোনাতলা উপজেলার লোকজন ও তেল নিতে এসেছে। তবে যারা নিয়মমাফিক লাইনে আসছে তাদেরকেই তেল দিচ্ছি। এসময়ে বিভিন্ন উপজেলার লোক আসায় কমপক্ষে ৩০ হাজার লিটারের চাহিদা সেখানে ৯ হাজার লিটার দিয়ে কি করতে পারি। তাই আমরা প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক বেশি লোককে তেল দিতে গড়ে সবাইকে ১০ লিটার করে তেল দিচ্ছি। এতে অনেকের চাহিদা মেটাতে পারছিনা।
কথা হয় তদারকি অফিসারের সাথে, তিনি বলেন সংকট মূহুর্তে সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দা ছাড়াও অন্যান্য পার্শ্ববর্তি এলাকার লোকজন ডিজেল নিতে আসায় সাঘাটার কৃষক, নৌকা মালিক ও ট্রাক্টর মালিকদের চাহিদা মেটানো বা প্রয়োজনমত তেল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তেল নিতে আসা সবার কথা চিন্তা করেই ১০ লিটার করে প্রত্যেককে দেয়া হচ্ছে। দিনভর অনেক মানুষ ডিজেল নিতে আসছে ফলে দীর্ঘ লাইন কখনোই ছোটো হচ্ছে না বা পাম্পের গেটে ভীড় কমছে না। তিনি বলেন সকালে আরো বেশি ভীড় ছিল।
তিনি আরো বলেন, উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশ মোতাবেক ও পাম্পে আসা তেল বুঝে নিয়ে তেল নিতে আসা ব্যাক্তিদের সবাই যেনো তেল পায় সেই মোতাবেক পাম্প মালিকের সাথে কথা বলে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থেকে বিতরণ করে ঘরে ফিরছি।
এখানে কোনো অনিয়ম বা কারচুপির সুযোগ নেই। তবে যারা তেল চাহিদা মত পাচ্ছেন না তাদের অভিযোগের শেষ নেই।
