ঢাকা
২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১:৩৬
প্রকাশিত : মার্চ ১, ২০২৬
আপডেট: মার্চ ১, ২০২৬
প্রকাশিত : মার্চ ১, ২০২৬

‎দুই মাস ব্ন্ধ থাকার পর সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট

‎সুন্দরবনে প্রজনন মৌসুমে টানা দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারও কাঁকড়া আহরণ শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর উপকূলজুড়ে জেলে পরিবারগুলোতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।তারা যেন কর্মব্যস্ততা মুখর।

‎বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকেই জেলেরা সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা দেন কাঁকড়া আহরণকারীরা।

‎প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময় কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়। এ সময় অনেক জেলে পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। কেউ বিকল্প পেশায় যুক্ত হন, আবার কেউ ধারদেনা করে সংসার চালান। নতুন মৌসুম শুরু হওয়ায় তাঁদের চোখে-মুখে এখন স্বস্তির ছাপ।

‎সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের রামপাল ও মোংলার জেলেপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, পাশের নদীর তীর থেকে জেলেরা কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম ও চারো নৌকায় তুলছেন। নৌকার সামনের অংশে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছানো হচ্ছে। কেউ নৌকার ছোটোখাটো সানাই কাজ করছেন, কেউ আবার কাঁকড়া ধরার দোন-দড়ি ঠিকঠাক করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বনে ফেরার প্রস্তুতির রণে ব্যস্ত যেন সবাই।

‎জেলেরা জানায়, সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেই তাদের সংসার চলে। অন্য কোনো পেশায় তারা অভ্যস্ত নন, এলাকাতেও বিকল্প কাজের সুযোগ সীমিত। গত দুই মাস নিষেধাজ্ঞার কারণে আয় বন্ধ থাকায় মহাজনের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এখন কাঁকড়া আহরণ শুরু হওয়ায় সেই ঋণ শোধের আশা করছেন তারা।

‎বিভিন্ন এলাকার জেলেরা বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের মতো দরিদ্র জেলেদের দিন কেটেছে চরম কষ্টে। সরকারি ভাতার ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে।

‎তাদের ভাষ্য, আর্থিকভাবে সচ্ছল কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে যান না, অধিকাংশই দরিদ্র পরিবার থেকে আসা।

‎বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ বছরও ৫৯ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ মার্চ থেকে বনবিভাগের অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে জেলেরা আবারও সুন্দরবনে প্রবেশ শুরু করেছেন।

‎উপকূলবর্তী জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার দুই মাস তারা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন এলাকায় বিকল্প কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হন। অনেকেই সংসার চালাতে স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়েছেন। এখন মৌসুম শুরু হওয়ায় তারা নৌকা ও জাল মেরামত করে নতুন উদ্যমে কাঁকড়া আহরণে নেমেছেন।

প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram