

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ৪৮ শতাংশ ভোটার এখন বিএনপিকে পছন্দ করছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের ভোটারদের ২৯ শতাংশ জামায়াত, ৬ দশমকি ৫ শতাংশ এনসিপি এবং ১৩ শতাংশ এখন অন্যান্য দলকে পছন্দ করছে। আর ২ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী (৩৭.৪ শতাংশ)। এরপর রয়েছে বিএনপি (২৭ শতাংশ) ও এনসিপি (১৭ শতাংশ)। ১৮.৬ শতাংশ তরুণ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।
কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ পরিচালিত (বিইপিওএস) যৌথ জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস: এ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে দেশের ১৮০টি আসনের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে দেশের ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আগ্রহী। অন্যদিকে ৮ শতাংশ ভোটার এখনো ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে নিশ্চিত নন। ভোটারদের ৩০.২ শতাংশ প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে চান এবং ৩৩.২ শতাংশ দল ও প্রার্থী উভয়কেই বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটাররা এখন ধর্মীয় ইস্যুর চেয়ে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ৬৭.৩ শতাংশ ভোটারের কাছে আগামী নির্বাচনের প্রধান ইস্যু ‘দুর্নীতি’। ৬৩ শতাংশ ভোটার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ৫৫.৪ শতাংশ উন্নয়ন এবং ৫১ শতাংশ নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিপরীতে ধর্মীয় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি এবং ব্যালট দখলের আশঙ্কা করছেন। বিএনপির ৪৯ শতাংশ ও জামায়াতের ৭১ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ভোটকেন্দ্রে ভয়ভীতির ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া ব্যালট ছিনতাই ও সরকারি পক্ষপাতিত্ব নিয়ে ভোটারদের আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
