

এস এম আওলাদ হোসেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট:
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন হলো জনগণের মতামত প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ অপরিহার্য। এর অর্থ—সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী যেন সমান সুযোগ, অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে বোঝায় এমন একটি পরিবেশ, যেখানে: ক্ষমতাসীন ও বিরোধী সব দল সমান সুযোগ পায়। রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারি সম্পদ নিরপেক্ষ থাকে। আইন ও বিধি সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হয়। ভোটাররা ভয় ও প্রভাবমুক্ত থেকে ভোট দিতে পারে।
১. নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইন প্রয়োগ ও আচরণবিধি বাস্তবায়নে দৃঢ়তা থাকতে হবে
২. প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা।পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য সরকারি সংস্থা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে। প্রার্থী ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
৩. সরকারি সম্পদের অপব্যবহার রোধ। সরকারি যানবাহন, ভবন, কর্মকর্তা বা অর্থ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না। ক্ষমতাসীন দলের জন্য বিশেষ সুবিধা বন্ধ রাখতে হবে।
৪. গণমাধ্যমে সমান সুযোগ। সব দলের জন্য প্রচারে সমান সময় ও সুযোগ নিশ্চিত করা।পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ ও অপপ্রচার রোধ করা
৫. নির্বাচনী আচরণবিধির কার্যকর প্রয়োগ। পোস্টার, মিছিল, সভা ও প্রচারে নির্ধারিত সীমা মানা।আচরণবিধি লঙ্ঘনে দ্রুত ও দৃশ্যমান শাস্তি।
৬. ভোটারদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা। ভোটকেন্দ্রে নিরাপদ পরিবেশ। ভয়ভীতি, প্রলোভন ও জাল ভোট প্রতিরোধ।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকলে সম্ভাব্য সমস্যা। বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনীহা। ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়া। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা বৃদ্ধি। গণতন্ত্র দুর্বল হওয়া। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও উত্তম চর্চা।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশকে সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করে। উন্নত গণতন্ত্রে নির্বাচনকালীন সরকার, স্বাধীন কমিশন ও শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে করণীয়।নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা জোরদার করা।
নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানো। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অবাধ প্রবেশাধিকার। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। গণতন্ত্রের স্বার্থে সব রাজনৈতিক পক্ষ, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলা অপরিহার্য। এটাই জনগণের আস্থা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি।
