

তৌসিফ রেজা (সৈয়দপুর) নীলফামারী:
লেপ তোষক শুধু শীত নিবারণের পণ্যে নয়। এটি বাঙালির শীতকালীন সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু আধুনিক স্রোতে এই সংস্কৃতি ম্লান হতে চলছে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক সময় শীত নামার আগেই, পাড়া মহল্লায় লেপ-তোষক রোদে দেওয়া ও লেপ-তোষক তৈরীকারী কারিগরদের ব্যস্ততা ছিল নজরকাড়া। কিন্তু সময় বদলেছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় লেপ-তোষকের জৌলুস অনেকটা কমেছে। শহর কিংবা গ্রাম সবখানেই তখন দাপট আধুনিক কম্বল, ও ব্ল্যাঙ্কেটের। আধুনিক রুচিশীল, হালকা, ঝকঝকে ও সহজে ধোঁয়া যায়এই সুবিধাগুলো মানুষকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এই আধুনিক পণ্যের কাছে।
আগে শীত এলেই লেপ তোষক কারিগরদের হাতে কাজের চাপ থাকতো। রাত জেগে তুলা ধুনা করে তোষক সেলাই করতে বাস্ত সময় পার করতে হতো। কিন্তু বাস্তব অর্থে সৈই ব্যস্ততা আর নেই। স্থানীয় এক কারিগর মাহবুব আলম বলেন, আগে শীতকালে তিন মাস কাজ করে আরা বছর অনায়েসে পার করা যেত। এখন তুলনামূলকভাবে অর্ডার অনেকটা কমেছে।
ক্রেতারা জানান, নানা কারণে তাদের ঝোঁক আধুনিক পোষাক বা বস্ত্রের দিকে। তোষকের বদলে অনেকে ম্যাট্রেস ক্রয় করছেন। দাম বেশী থাকলেও এটি সুবিধাজনক। স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় লেপ ও তোষকের তুলনায় আধুনিক
কম্বল ও ম্যাট্রেস অধিক স্বাস্থ্যসম্মত। কম্বল ধুয়ে ব্যবহার করা উপযোগী। যার ফলে এলার্জিজনিত নানা সমস্যার থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
সৈয়দপুর উপজেলায় এগুলো তৈরীর ২৫-২৬টি প্রতিষ্ঠানে শতাধিক কারিগর রয়েছে। আগে দৈনিক ৮-১০টি লেপতোষক তৈরী হলেও বর্তমানে তৈরী করা হয় ২-৪টি। গত মৌসুমে দৈনিক ১৫০০-২০০০ টাকা আয় হলেও,চলতি বছরে আয় কমেছে। ম্যাট্রেস ও কম্বল বাইর হওয়াতে লেপ তোষকের কদর কমেছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ফেরদৌস খান বলেন, একটা সাধারণ ৪/৫ হাতের লেপ তৈরীতে খরচ পরে ২৩০০- ২৫০০ টাকা। আর ৫/৬ হাত লেপ তৈরীতে খরচ পরে ২৮০০-৩০০০ টাকা অন্যদিকে আধুনিক কম্বল ২২০০-৩২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
আর ম্যাট্রেস মিলছে ৪০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০০ টাকা পর্যন্ত। আধুনিকতা ও রুচি পরিবর্তনের ফলে এই শিল্পে সম্ভাবনা কমেছে।
সবকিছুর পরও এক শ্রেণীর মানুষ এখনো লেপের উষ্ণতা ছাড়তে পারিনি। বিশেষ করে বয়স্করা বলেন, কম্বল যতই দামী হোক না কেন, লেপের মতো আরাম নেই।
