ঢাকা
১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:৫৭
প্রকাশিত : নভেম্বর ২৪, ২০২৫
আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২৫
প্রকাশিত : নভেম্বর ২৪, ২০২৫

মানিকগঞ্জে মাঠ দিবস ও নবান্ন উৎসবে বৈচিত্র্য রক্ষার ডাক

মো. নজরুল ইসলাম,মানিকগঞ্জ:

মানিকগঞ্জ জেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বরুন্ডি কৃষক নেতৃত্বে প্রায়োগিক ধান গবেষণা প্লটে বরুন্ডী কৃষক- কৃষাণী সমিতি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক এর যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী ধানের জাত বাছায়ে মাঠ দিবস ও নবান্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার(২৪ নভেম্বর) দিনব্যাপী মাঠ দিবস ও নবান্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরুন্ডি কৃষক সংগঠনের সভাপকি বৈদ্য নাথ সরকার মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাকিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহজাহান সিরাজ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার ডিএই মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান, বারসিক আঞ্চলীক সমন্বয়কারী বিমল রায়, উপসহকারী নার্গিস আক্তার, কৃষক গবেষক মাহিনুর আক্তার, শহিদুল ইসলাম, গুরুদাস সরকার, অরুণ সরকার এবং বারসিক গ্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শিমুল বিশ্বাস, নজরুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান, সত্যরঞ্জন সাহা, মুকতার হোসেন প্রমুখ।

তারা আলোচনায় বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য লোকজ সংস্কুতি নবান্ন উৎসবে কৃষক মাঠ থেকে বিভিন্ন ধরনের ধান সংগ্রহ করেন। অগ্রহায়ণে আমন ধান কৃষকদের ঘরে উঠে।কৃষকগণ ঘরে ঘরে নতুন ধানের চাল দিয়ে পিঠা পায়েশ তৈরী করে।গ্রাম বাংলার লোকজ সংস্কৃতি রক্ষায় বারসিক সুন্দর উদ্যোগ।

এই উৎসব আমাদের নিজ সংস্কৃতি চর্চায় সহায়ক হবে।কৃষকদের উদ্যোগে ব্যতিক্রমী ধান গবেষণা মাধ্যমে কৃষক নির্ভীর চাষাবাদ খুবই সুন্দর একটি উদ্যোগ।সম্পূর্ণ জৈব উপায়ে গবেষণা প্লটে ধান উৎপাদন হয়। ঘরের বীজ দিয়ে, সার দিয়ে, শ্রম দিয়ে করেন। বীজ হিসাবে বীজ ব্যাংকে সংরক্ষণ করেন।কৃষকগণ পর্যবেক্ষণ করে ধান বাছাই করেন।

আজকে মাঠ দিবসের মাধ্যমে উপস্থিত কৃষকগণ স্থানীয় গোসাই ধান, মকবুল ধান, এম-৫২, সাদাপোলাও, কাজলশাইল, রাজ ভোগ ধান বাছাই করে ৪২ জন কৃষক।কৃষক স্বাধীনভাবে চাষাবাদ করতে পারেলে বৈচিত্র্য রক্ষা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা হবে।লোকয়ত চর্চা হবে।কৃষকদের জ্ঞান দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পরিবেশ সম্নত উদ্যোগ সম্প্রসারণ হবে।

উল্লেখ্য যে কৃষকনেতৃত্বে ধান গবেষণার মাধ্যমে এগ্রাইকোলজি চর্চায় কৃষকগণ তখ্য আদান প্রদান ও উদ্যোগ গ্রহনে একে অপরকে সহায়তা করেন। প্রাকৃতিক বন্যা, অতিবৃষ্টি ও থরা থেকে রক্ষায় কৃষক গবেষকগণ গবেষণা প্লট থেকে ধান জাত বাছ করে চাষাবদ ও সম্প্রসারণ করছেন। গবেষণা প্লটে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয ৮২ জাতের ধানের চাষ রয়েছে।কৃষক গবেষক গোসাই দাস রায়ের নিকট জানা যায় ধান গবেষণা প্লটে চাষাবাদ করা হয় সম্পূর্ণ জৈব উপায়ে।

কৃষক বাড়ির তৈরী ভার্মি কম্পোষ্ট ও গোবর সার ব্যবহার করে চাষ করেন।কৃষকগণ নিজের সংরক্ষিত ধান বীজ দিয়ে বীজতলা করে চারা তৈরী করেন।জৈব সার দিয়ে জমি প্রস্তুত করে ধানের চারা রোপন করেন।প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টির পানিতে ধান হয়।প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা, বর্ষা, খরা টিকে থাকা উৎপাদনশীল ধান জাত কৃষকগণ রিয়মিত পর্যবক্ষেণ করে বাছাই করেন। বাছাইকৃত ধানের জাত বীজ হিসাবে কৃষকদর দেওয়া হয়।কৃষক চারা তৈরী করে চাষাবাদ করেন এবং কৃষকদের উদ্যোগে দেশীয় ধানবৈচিত্র্য বিনিময়ের মাধ্যমে সম্প্রসারণ করেন। এভাবে চাষাবাদের ফলে কৃষকদের বাজার নির্ভরশীলতা কমে ও কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা হয়। মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে।ফলে মাটি ভালো ও বেশী ফসল উতপাদনে সহায়ক হবে।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram