ঢাকা
প্রকাশিত : September 24, 2026
আপডেট: September 24, 2026
প্রকাশিত : September 24, 2026

লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়কের১৮ কিলোমিটার সড়কজুড়ে খানাখন্দ, বালু-কাদা ও ধুলায় নাকাল যাত্রী-চালক

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।

লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর অংশের প্রায় ১৮ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দ, বালু-কাদা ও ধুলায় বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। গর্তে চাকা পড়লে তীব্র ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠছে। অনেক সময় গাড়িগুলোকে হেলে-দুলে চলতে দেখা যায়।

বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সড়কে জমে থাকা বালু কাদায় পরিণত হয়ে পিচ্ছিল হয়ে যায়। এতে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ে। আবার বৃষ্টি না থাকলে শুকনো বালু ও ধুলায় পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর অংশের ১৮ কিলোমিটার এবং নোয়াখালী অংশের ১১ কিলোমিটার। নোয়াখালী অংশের পুরোনো সড়ক তুলনামূলকভাবে সচল থাকলেও লক্ষ্মীপুর অংশে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মেঘনা নদীর মজুচৌধুরীরহাট লঞ্চ-ফেরিঘাট ও চাঁদপুরের হরিণাঘাট হয়ে দেশের বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অন্তত ২১টি জেলার মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই মহাসড়ক। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

চারলেন প্রকল্পের ২৯ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে প্রায় ৫৬৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুরের ১৮ কিলোমিটারে ৩২৯ কোটি টাকা এবং নোয়াখালীর ১১ কিলোমিটারে ২৪০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সওজ সূত্র জানায়, চারলেন সড়কের প্রস্থ হবে ২০ মিটার। লক্ষ্মীপুরের পশ্চিম চন্দ্রগঞ্জ বাজার থেকে মান্দারী বাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার কাজ পেয়েছে রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড বিল্ডার্স। মান্দারী থেকে লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার কাজ পেয়েছে তাহের ব্রাদার্স। নোয়াখালী অংশের তিনটি প্যাকেজের মধ্যে দুটির কাজ পেয়েছে রিলায়েবল বিল্ডার্স। তবে জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে একটি প্যাকেজের কাজ এখনো শুরু হয়নি।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রুবেল হোসেন ও ট্রাকচালক জাকির হোসেন বলেন, চারলেনের কাজ শুরু হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে। কিন্তু পুরোনো সড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়ে এই সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। গর্তে চাকা পড়ে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

মোটরসাইকেল আরোহী জুনায়েদ আহমেদ ও ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কয়েক স্তরের বালু জমে আছে। বৃষ্টি হলে এসব বালু কাদায় পরিণত হয়ে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন মোটরসাইকেল চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালু নাক-মুখে ঢুকে শ্বাসকষ্ট ও কাশির সমস্যা তৈরি করছে।

সড়কের যাত্রী ইমরান হোসেন ও আরিফ হোসেন বলেন, সড়কের গর্ত ও বালুর কারণে মোটরসাইকেলে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাস বা সিএনজিতে চলাচল করলেও গাড়ির চাকা গর্তে পড়লে শরীর কেঁপে ওঠে। কখনো কখনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশেও চলে যাচ্ছে।

ধুলাবালুর স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বলেন, ধুলাবালুর কারণে শ্বাসযন্ত্রে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ে এবং অ্যালার্জিজনিত সমস্যাও হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধুলাবালু থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, চারলেনের কাজ চলমান রয়েছে। কাজ শেষ হলে একটি লেয়ার দেওয়া হলে দুর্ভোগ অনেকটা কমবে। মূল সড়কে যেখানে বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে, সেখানে সংস্কার করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টি ও ভারী যানবাহনের কারণে সংস্কার করা অংশ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। কাদা ও বালুর বিষয়েও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও যাত্রীদের দাবি, চারলেন প্রকল্পের কাজ চললেও পুরোনো সড়কটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ার আগেই তা চলাচলের উপযোগী রাখা জরুরি। খানাখন্দ দ্রুত ভরাট, অতিরিক্ত বালু অপসারণ, ধুলা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্ষায় পানি ও কাদা জমার সমস্যা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram