

মো. নজরুল ইসলাম মানিকগঞ্জ।।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ফাড়ির চর গ্রামের এক চিরচেনা ও শ্রদ্ধেয় নাম কমরেড ডাঃ আশরাফ সিদ্দিকী।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও ছাত্র আন্দোলন ছোটবেলায় হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি সান্নিধ্য পান অত্র এলাকার বাসুদেবপুর গ্রামের আরেক কিংবদন্তি নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড আজহারুল ইসলাম আরজুর। তাঁর প্রভাবেই আশরাফ সিদ্দিকীর ভেতরে সমাজতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটে। অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন 'বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন'-এর নীল পতাকাতলে যুক্ত হন এবং শুরু হয় তাঁর রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম।
শ্রমিক রাজনীতি ও ত্যাগ পরবর্তীতে সাভারের একটি জুটমিলে কাজের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। সেখানে দেশবরেণ্য শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে তিনি বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন ট্রেড ইউনিয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। একপর্যায়ে শাসকগোষ্ঠীর জেল, জুলুম ও হুলিয়া মাথায় নিয়ে তাঁকে চাকরি ছাড়তে হয় এবং তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন।
ক্ষেতমজুর ও ভূমিহীন মানুষের অধিকার আদায় গ্রামে ফিরে কৃষিকাজের পাশাপাশি কমরেড আজহারুল ইসলাম আরজুর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনি ক্ষেতমজুর আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েন। ভূমিহারা ও সর্বহারা মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি বণ্টন নিশ্চিত করতে তিনি ঐতিহাসিক সংগ্রাম পরিচালনা করেন এবং সফলতা অর্জন করেন।
পারিবারিক ও বর্তমান জীবন সংসার জীবনে তিনি দুই কন্যার জনক; দুই কন্যাই আজ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
জীবনের শেষ অপরাহ্ণে এসে নানা শারীরিক জটিলতার সাথে লড়াই করছেন তিনি। বাইপাস সার্জারি হওয়ার পরও তিনি নিজেকে কখনো অসুস্থ বা দুর্বল মনে করেন না। বর্তমানে তিনি নিখরচায় বা নামমাত্র মূল্যে প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
সবসময় হাসিখুশি, উদার, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনার অধিকারী কমরেড ডাঃ আশরাফ সিদ্দিকী আমাদের সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।
