ঢাকা
৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিকাল ৪:৫৪
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও:

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে জেলায় উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের সদর উপজেলার জামালপুর এলাকার আমতলী রেল ঘুন্টির ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে মহেশালী (ভাতার মারি ফার্মে) প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এ জেলায় দীর্ঘদিনের উচ্চশিক্ষার দাবির বাস্তবায়ন শুরু হলো। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য জেলায় যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং এ অঞ্চলে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেন এবং পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। আমি আশা করি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন ও অবকাঠামোর নকশা তৈরি হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ এই এলাকার মানুষের জন্য আনন্দের দিন। কারণ, এখন থেকে এই এলাকার মানুষ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন এবং এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে। তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই এলাকার মানুষ সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থেই একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।’

এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয়। সেখান থেকে তিনি সার্কিট হাউসে যান এবং সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি।

নাগরিক সংবর্ধনায় ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরা হয়। জেলাটির উন্নয়নের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও অনেকটাই অবহেলিত। এ জেলার মানুষের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। এরই মধ্যে জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা জরুরি। বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির সফর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শহরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল ও যাতায়াতের পথেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশাবাদ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে ঠাকুরগাঁওসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এর সুফল পাবেন।

ঠাকুরগাঁও শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশালী এলাকায় প্রায় ৮৬ একর জমিতে নির্মিত হতে যাচ্ছে এই বিদ্যাপীঠ। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বোর্ড থেকে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ কোটি ১২ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয় ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে।

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. ইসরাফিল শাহিন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যরা ।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram