

স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা :
গাইবান্ধার সাঘাটায় জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বাজিতনগর গ্রামে জমিজমা ও পারিবারিক শত্রুতা সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলী আকন্দ গংদের বিরুদ্ধে শাহানাজের পরিবারের লোকজনের উপর একের পর এক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
রোস্তম আলী গংদের বিরুদ্ধে দুই মাসের ব্যবধানে শাহনাজ ও পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় তার মেয়েকে ছুরিকাহত করে ও প্রথম দফার মারপিটে শাহানার মাথায় ছুরিকাহতসহ পা ভেঙে দেয়ায় সাঘাটা থানায় পৃথক সময়ে দুটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। যার নং ৩১ তারিখ ২৯ জুন ২০২৬ ইং ও মামলা নং ১৩ তারিখ ১৫ আগষ্ট ২০২৬।
এই দুই মামলার আসামী রোস্তম আলী আকন্দ আদালত থেকে জামিন না নিয়েই প্রকাশ্য জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রোস্তম আলী আকন্দের সাথে পুলিশের সখ্যতা দেখে সচেতন মহলে ও মামলার বাদী পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তোলেন।
শুধু তাই নয় মামলা করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার খরচ তুলতে সম্প্রতি শাহনাজের বাড়িতে থাকা ছাগল, হাঁস, মুরগি, বিদ্যূৎ সংযোগের তারসহ সেচপাম্পের মোটর, টিউবওয়েল, সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। সে বিষয়ে আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এসব করেই বিবাদীরা ক্ষান্ত হয়নি। শাহানাজ ও তার দুলাভাই মঞ্জুর বিরুদ্ধে মাদক কারবারি, জুয়াড়ুসহ নানান অভিযোগ তুলে সম্প্রতি মানববন্ধনে সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে। যাহা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করে মানহানিকর মন্তব্য তুলে ধরেছে। এমনটাই দাবি শাহনাজের।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মঞ্জু বলেন, কামারপাড়া মৌজার জেএল নং ১০৩ এর ১৭ নং খতিয়ানের ছুতির পুত্র উমেদ আলীর নামে সিএস খতিয়ানভুক্ত হয়। যার দাগনং ১২২৩ জমির পরিমান ৪৪ শতক। সেই জমি ভুলক্রমে ৬২ সালে এসএ রেকর্ডে জনৈক মোস্তানূর রহমান বুলেট নামে রেকর্ড হয়।
ওই জমি ওই দাগ ওই খতিয়ান বিআরএস রেকর্ডে মোস্তাফিজার রহমান ওরফে রকেটের নামে আবার ভুলক্রমে রেকর্ড হয়।
উমেদ আলীর জমি কিভাবে তার নামে রেকর্ড হলো সে বিষয়ে তার নাতি মঞ্জু গং জানার চেষ্টা করলে বুলেট তা বলতে অস্বীকার করায় গাইবান্ধায় বিজ্ঞ আদালতে মোকদ্দমার সৃষ্টি হয়। মামলায় রকেট ও বুলেট রেকর্ড করা জমির কোনো বৈধ প্রমাণ দেখাতে না পারায় মঞ্জু গং দীর্ঘদিন থেকে সেই জমি চাষাবাদ করে খেতে থাকে।
সম্প্রতি সেই জমি জুমারবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলীসহ প্রভাবশালী ১৩ জন ব্যাক্তি মিলে ভুলে রেকর্ড হওয়া জমি মোস্তাফিজুর রহমান রকেটের কাছে থেকে দলিল করে নিয়ে তারা মঞ্জুর পরিবারের উপর নির্যাতন শুরু করে।
অপরদিকে শাহানার স্বামী ছানাউল ইসলামের পিতা হবিবর রহমান আকন্দ গংদের কামারপাড়া মৌজার ১৩০ খতিয়ানভুক্ত ৭ একর ৪৬ শতক জমির চার আনা অংশ জমি এসএ রেকর্ডে হবিবর রহমানের পাশাপাশি ভুলক্রমে মোস্তাফিজুর রহমান রকেটের নাম অন্তভুক্ত দেখা যায়।
সেই জমি নিয়ে ২০১০ সালে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করা হয় যাহার নং ৬৭/১০। সে মামলায় মোস্তাফিজুর রহমান রকেট কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় মামলায় ছানাউল ডিক্রি পায়। ডিক্রি পাবার পর ওই মামলায় রোস্তম আলী আকন্দ আপিল করে। আপিলে রোস্তম আলী আকন্দ হেরে গেলে আবার তার চাচাতো ভাই মোন্তাজ আকন্দ আপিল করে যা বিজ্ঞ আদালতে চলমান রয়েছে।
এই জমি-জমা মামলায় হেরেই রোস্তম আলী আকন্দ ক্ষিপ্ত হয়ে শাহনাজের পরিবারের লোকজনকে নানান ভাবে সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করতে ব্যস্ত বলে জানান ছানাউল ।
এ বিষয় নিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলী আকন্দের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা। শাহানাজ বেগম নামের ওই নারী আমাকে সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করতেই মিথ্যা মামলায় হয়রানি করছে। আপনারা গ্রামে আসেন আশেপাশের লোকদের সাথে কথা বললেই বুঝতে পারবেন। আমি তাঁকে মারপিটের বিষয়ে কিছুই জানি না। ঘটনার দিন আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। লোকমুখে শুনেছি। আমি নির্দোষ। আমি নিরপরাধ।
