

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র, রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমিন সওদাগরের ছেলে রকি সওদাগর। বাবার প্রত্যাশা ছিল ছেলে ব্যবসায় যুক্ত হয়ে ভবিষ্যতে একজন সফল ব্যবসায়ী হবে। তবে রকির স্বপ্ন ছিল ভিন্ন—দৃঢ় মনোবল নিয়ে মানুষের পাশে থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে নিজ এলাকায় রাজনীতির পথচলা শুরু করেন রকি সওদাগর। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজ বসবাসরত ওয়ার্ডে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি স্থানীয়ভাবে নিজের গ্রহণযোগ্যতার জানান দেন।
সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকায় আটক হয়ে কারাগারে যেতে হয় তাকে। পরবর্তীতে ৫ আগস্টের পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে এলে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনে সিক্ত হন তিনি।
এরপর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব পান রকি সওদাগর। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই হাজারেরও বেশি বিচারকার্য সম্পন্ন করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। অল্প বয়সে এত বিপুলসংখ্যক বিচারকার্য পরিচালনা করে তিনি এলাকায় আলোচনায় আসেন। বয়স কম—এই ধারণার বিপরীতে তার কর্মকাণ্ড তরুণদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।
এরই মধ্যে জাতীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন রকি। বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে এলাকায় ব্যাপকভাবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ ও যুবকদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
সম্প্রতি কমলনগর উপজেলার সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাকে সংসদ সদস্য বিথিকা বিনতে হোসাইন-এর প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে রকি সওদাগরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রকি সওদাগর চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ তার পাশে দাঁড়াতে পারে। নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব ও উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করছেন তার সমর্থকরা।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে তার অবস্থান কী হবে এবং সাধারণ ভোটাররা তাকে কতটা গ্রহণ করবেন—তা নির্ভর করবে সময়, রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর।
স্থানীয়রা আশা করছেন, আগামী দিনে একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের ভোটে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।
