

মো. ফোরকান, বাউফল, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর বাউফলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম। এরমধ্যেই এক সপ্তাহ ধরে চেয়ারম্যানের কক্ষে ঝুলছে বহিরাগতদের দেওয়া তালা। অপসারণের দাবিতে স্থানীয় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের আন্দোলনের মুখে প্রায় দুই সপ্তাহধরে অফিসে আসেন না ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান আলেয়া বেগম।
এরই মধ্যে গত ১১ আগস্ট তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষ তালাবদ্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা। এতে ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বিভিন্ন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মোসা. আলেয়া বেগম বলেন, একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ভাগ দাবি করছিলেন। কিন্তু আমি সরকারি নির্দেশনা মেনেই কাজ করছিলাম। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। মব সৃষ্টি করে অফিস কক্ষে তালা মেরে রেখেছেন। আগেও তারা ডিসি অফিসে অভিযোগ করেছিলেন। তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে অ'ভি'যোগের সত্যতা পায়নি প্রশাসন। তাকে নানা রকম হু'মকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অ'ভি'যোগ করেন।
আন্দোলনকারী ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি পদ প্রার্থী শাহিন রেজা বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত বি'রোধের বিষয় নয়। সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের যৌক্তিক দাবি রয়েছে। আলেয়া বেগমকে সামনে রেখে তার ছেলে আলমাস তালুকদার ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ শিক্ষকতা করেন। এতোদূরে থেকে ইউপি কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব, এতে সেবা বঞ্চিত হয় জনগণ। তাই আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। চেয়ারম্যানের কক্ষ তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৩ নম্বর আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের কক্ষটি তালাবদ্ধ রয়েছে। পরিষদের অন্যান্য বিষয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অন-রেকর্ড কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
