

আবু তাহের, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
অনুমতি না নিয়ে মামাতো বোন আশার চশমা চোখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভগ্নিপতিদের অতর্কিত ও বেদম মারধরে রাকিব বাবু (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২২ জুলাই দুপুরে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার মহেষপাড়া (ওয়াপদা বাঁধ) গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত রাকিব পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের ফুল বাবুর একমাত্র সন্তান।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাকিবের সহোদর বোনের বিয়ে উপলক্ষে দাওয়াত খেতে আসে তার মামাতো বোন আশা ও তার খালাতো বোন ও তাদের স্বামীরা ।
গত ২২ জুলাই দুপুরে রাকিব তার মামাতো বোন আশার চশমাটি অনুমতি ছাড়া নিজের চোখে দেয়। এ নিয়ে আশার স্বামী রাকিবকে ‘চোর’ বলে অপবাদ দিলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও কথাকাটাকাটি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার জেরে ওই দিন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রাকিবের মামাতো বোনের স্বামী পাভেল, তৌহিদুল ইসলাম, রিফাত এবং খালাতো বোনের স্বামী হেলালসহ ৪-৫ জন পূর্ব পরিকল্পিতবাবে একজোট হয়ে সুযোগ বুঝে শক্ত লাঠি দিয়ে রাকিবের ওপর হামলা চালায়। তারা রাকিবকে পুরো শরীরে, মাথায় ও বুকে এলোপাতাড়ি বেদম মারধর করে গুরুতর জখম করে।
হামলার পর রাকিবের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ও তার বাবা তাকে উদ্ধার করেন।
কয়েক ঘন্টা পর রাকিবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভ্যানযোগে তাকে তার বাবা ও জেঠা সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা রাকিবকে দেখে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর পূর্বে রাকিব তার দাদী ও জেঠাতো ভাই নাঈমকে আকুতি জানিয়ে বলে, “ওরা আমাকে যেভাবে পিটিয়েছে, আমি আর বাঁচব না। তোরা আমার শরীরের আঘাতের চিহ্নগুলোর ভিডিও করে রাখ, ভবিষ্যতে বাবার কাজে লাগবে।” পরিবারের স্বজনেরা পরে সেই আঘাতের চিহ্নের ভিডিও ধারণ করে রেখেছেন।
এরপরেও ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের বাবা ফুল বাবু। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার একমাত্র সন্তানকে পিটিয়ে হত্যা করা হলো, আর আমার স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন আসামীদের বাঁচাতে ব্যস্ত। রাকিবকে যখন মারা হচ্ছিল, তখন ওর মা না ঠেকিয়ে উল্টো বলছিল—‘মার, ওকে আরও মার’।”
সন্তানের বাবা জীবিত থাকা সত্ত্বেও হত্যার ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে নিহতের মা রুবি বেগম বাদী হয়ে সোনাতলা থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান নিহতের বাবা। যা তার সম্পুর্ণ ইচ্ছের বিরুদ্ধে।
ফুল বাবু বলেন, আমি শুরু থেকেই হত্যা মামলা করতে চেয়েছি। সেখানে তার মাকেও আসামি করতে চাওয়ায় তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে এক ঘরে আটকে রেখে তার মাকে বাদী করে ইউডি মামলা করেছে।
ইউডি মামলার পর থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ বাবার নিকট হস্তান্তর করলে গত ২৩ জুলাই রাতে বাবার পৈতৃক ভিটায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে অভিযুক্ত হেলালের স্ত্রীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মারধরের বিষয়টি কিছুটা স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, “দুলাভাইয়েরা ওকে দুই-চারটা চড়-থাপ্পড় দিয়েছিল। সেই রাগে ও অভিমানে রাকিব হয়তো গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।”
এ বিষয়ে নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত সকল আসামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বাদী পরিবর্তনের বিষয়টি নেয়ার জোর দাবি জানান।
