ঢাকা
১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিকাল ৫:১৯
প্রকাশিত : জুন ১৯, ২০২৬
আপডেট: জুন ১৯, ২০২৬
প্রকাশিত : জুন ১৯, ২০২৬

বাউফলের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ৫ আর শিক্ষক-কর্মচারী ১৭জন

ফোরকান, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক-কর্মচারীর অস্বাভাবিক সংখ্যাধিক্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৫জন। বিপরীতে শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা ১৭ জন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে মাদ্রাসা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ওপরে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত নেই। পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে একজন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে দুইজন অধ্যয়ন করছে। একই কক্ষে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করা হচ্ছিল।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তবে পরিদর্শনের সময় শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাতজন। কয়েকজন শিক্ষককে অবসর সময় কাটাতে দেখা গেলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সংক্রান্ত কোনো হাজিরা খাতা প্রদর্শন করা হয়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৪ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার সুপার, মেয়ে নুরজাহার রাঢ়ি ইবতেদায়ী শিক্ষক এবং দুই ছেলে খাইরুল ইসলাম ও সিদ্দিকুর রহমান যথাক্রমে অফিস সহকারী ও নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী সংকট থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

তারা বলেন, এমপিওবিহীন কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই মাদ্রাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাশাপাশি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানীর ভিত্তিতে শিক্ষক পাঠানো হয় এবং সেখানকার শিক্ষার্থীদের একটি অংশও এ মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার বলেন, এলাকার দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বর্ষা মৌসুমে সড়ক ডুবে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আগ্রহীনা। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, এমপিওভুক্ত নয় এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাদের মাদ্রাসার অধীনে নিবন্ধনের মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram