

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে রামগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল মান্নানসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পর এই মামলা দায়ের করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মেহেদী হাসানের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক ঘটনাস্থল ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি ও ঘটনার মূল স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
ঘটনার পর থেকেই মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, থানা চত্বর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, শোক র্যালি এবং সড়ক অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘মেহেদী হত্যার বিচার চাই’, ‘শিক্ষকের হাতে ছাত্র খুন কেন? জবাব চাই’ এবং ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ লেখা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ স্থান হওয়ার কথা থাকলেও মেহেদীকে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
আন্দোলনের মুখে দুই দিন পর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
