ঢাকা
১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:৩৭
প্রকাশিত : জুন ১২, ২০২৬
আপডেট: জুন ১২, ২০২৬
প্রকাশিত : জুন ১২, ২০২৬

সত্য উদঘাটনের দায়িত্ব গণমাধ্যমের' ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের

এস এম আওলাদ হোসেন,কলামিস্ট ও সাংবাদিক।।

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের “চতুর্থ স্তম্ভ” বলা হয়। আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি সাংবাদিকতা সমাজে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কেবল সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনস্বার্থে তথ্য অনুসন্ধান, অনিয়ম-দুর্নীতি উন্মোচন এবং জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরাও এর অন্যতম দায়িত্ব।

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদক ব্যবসা, ভূমিদস্যুতা, পরিবেশ ধ্বংস, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা সামাজিক অপরাধের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে এমন তথ্যও সামনে আসে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। এসব প্রতিবেদন সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব পালনে বাধ্য করে।

তবে একটি ভুল ধারণা সমাজে ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে। অনেকে মনে করেন, কোনো সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই সাংবাদিকদের দায়িত্ব শেষ নয়; অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করাও যেন তাদের কাজ। বাস্তবতা হলো, সাংবাদিকের কাজ সত্য তুলে ধরা, বিচার করা নয়। সাংবাদিক কোনো তদন্ত কর্মকর্তা নন, তিনি আদালতও নন। সংবাদমাধ্যম তথ্য ও প্রমাণ জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারে, কিন্তু আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা তাদের নেই।

বাংলাদেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী অপরাধ তদন্ত, মামলা পরিচালনা এবং বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব যথাক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিচার বিভাগের। কোনো দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলে তা তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), কোনো অপরাধের ঘটনা হলে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা, আর চূড়ান্ত বিচার করবে আদালত। এটাই আইনের শাসনের মূলনীতি।

প্রশ্ন হলো, অনেক সময় সংবাদ প্রকাশের পরও কেন দৃশ্যমান ব্যবস্থা দেখা যায় না? এর কারণ হতে পারে প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, দীর্ঘসূত্রিতা কিংবা জবাবদিহিতার অভাব।

ফলে জনগণের মাঝে হতাশা তৈরি হয় এবং তারা সংবাদমাধ্যমকেই কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার জন্য দায়ী করতে শুরু করে। অথচ প্রকৃতপক্ষে গণমাধ্যম তার দায়িত্ব পালন করেছে; ব্যর্থতা যদি থেকে থাকে, তবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে বড় বড় দুর্নীতি ও অপরাধের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে তখনই, যখন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করেছে। অর্থাৎ গণমাধ্যম সমস্যা চিহ্নিত করতে পারে, কিন্তু সমস্যার সমাধান করতে পারে না; সমাধানের জন্য প্রয়োজন কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা।
সাংবাদিকতা কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত যুদ্ধ নয়, আবার কাউকে হেয় করার মাধ্যমও নয়।

এটি জনস্বার্থে সত্য অনুসন্ধানের একটি পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব। তাই সাংবাদিকদের উচিত তথ্যভিত্তিক, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন করা। একইসঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকতা এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক। সংবাদমাধ্যম সত্য তুলে ধরবে, আর রাষ্ট্র সেই সত্যের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এই সমন্বয়ই পারে দুর্নীতি ও অপরাধমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram