

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উন্নয়নের নতুন দিগন্তে প্রবেশ করছে লক্ষ্মীপুর। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন খাতে একযোগে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হয়েছে, আবার কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
জেলার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অন্যতম উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলে চন্দ্রগঞ্জ নামে নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক সেবা জনগণের আরও দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে এবং স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে লক্ষ্মীপুরের প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে জেলার যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্প খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উচ্চশিক্ষা খাতে জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ এখন দৃশ্যমান। বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করবে।
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে এবং এর জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান চালু হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসক ও নার্স তৈরির সুযোগ বাড়বে এবং স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ জনবল গড়ে উঠবে।
তবে জেলার মানুষের প্রত্যাশা এখানেই শেষ নয়। এখনও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, যা বাস্তবায়িত হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।
এছাড়া ইকোনমিক জোন স্থাপন জেলার শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এ প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ঢাকা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে লঞ্চ চলাচল চালু করা। পাশাপাশি রেললাইন স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে লক্ষ্মীপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক গুরুত্ব ও উন্নয়ন সূচকের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুর জেলাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার দাবিও দীর্ঘদিনের। জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় এ দাবির বাস্তবায়নও সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান রাখায় স্থানীয় জনগণ সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং জেলার দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি অপেক্ষমাণ প্রকল্পগুলোও শিগগিরই আলোর মুখ দেখবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই লক্ষ্মীপুর দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও আধুনিক জেলায় পরিণত হতে পারে।
