

এস এম আওলাদ হোসেন,সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
রামিসা আজ আর ফিরবে না। তার হাসি, তার স্বপ্ন, তার শৈশব—সবকিছুই এক নির্মম অপরাধের কাছে হার মেনেছে। কিন্তু তার জন্য ঘোষিত রায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ন্যায়বিচার কখনো কখনো বিলম্বিত হতে পারে, তবে তা নিশ্চিহ্ন হয় না।
একটি শিশুর কান্না, একটি মায়ের আহাজারি এবং একটি পরিবারের অসহনীয় শোক কোনো রায়েই পূরণ হয় না। তবুও এই রায় সমাজকে একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে—শিশুর নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যে হাত উঠবে, মানবতার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হবে, আইনের কঠোর হাত একদিন তার দরজায় পৌঁছাবেই।
যারা মনে করে ক্ষমতা, অর্থ, প্রভাব কিংবা কৌশলের আড়ালে অপরাধ লুকিয়ে রাখা যায়, তাদের জন্য এই রায় ভবিষ্যতের কঠোর হুঁশিয়ারি। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি নির্যাতিত শিশুর আর্তনাদ সমাজের বিবেককে জাগিয়ে তোলে। প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব একদিন না একদিন দিতে হয়।
আজ রামিসার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রকে একসঙ্গে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো শিশুকে ভয়ে বড় হতে হবে না, কোনো অভিভাবককে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হবে না।
রামিসার রক্ত যেন শুধু একটি মামলার নথিতে সীমাবদ্ধ না থাকে। এটি হোক সমাজ পরিবর্তনের অঙ্গীকার, অপরাধ দমনের প্রেরণা এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার শপথ।
অপরাধীদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ মানে শুধু একটি জীবনের বিরুদ্ধে অপরাধ নয়, এটি পুরো জাতির ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে যারা জড়াবে, তাদের জন্য আইনের কঠোরতম পরিণতি অপেক্ষা করবে।
শিশুরা ভয়ে নয়, নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও মর্যাদার পরিবেশে বেড়ে উঠুক—এটাই হোক রামিসার প্রতি আমাদের সত্যিকারের শ্রদ্ধা।
