

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট:
সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের পাতা ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া পূর্ণবয়স্ক বাঘিনীটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। টানা ৪২ দিনের চিকিৎসায় তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং আচরণে আগের ক্ষিপ্রতাও ফিরে এসেছে।
তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় এখনই তাকে বনে অবমুক্ত করা হচ্ছে না। বর্তমানে বাঘিনীটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, বাঘিনীটি আগের তুলনায় অনেকটা ভালো আছে এবং নিয়মিত গর্জন করছে। সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত হলেই তাকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আংশিক সুস্থ অবস্থায় ছেড়ে দিলে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত নিবিড় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। বাঘিনীর পায়ের ক্ষত শুকাতে শুরু করেছে এবং চলাফেরায় স্বাভাবিকতা ফিরে আসছে। গাজীপুর সাফারি পার্ক-এর ভেটেরিনারি সার্জন সাজ্জাদ মো. জুলকারনাইনের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার শুরুর দিকে তিনি জানান, বাঘিনীর বাম পায়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক ছিল না, ফলে নার্ভ ও মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এছাড়া শরীরের প্রতিরোধক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার কারণে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়, যার প্রভাবে ফুসফুসের মাংসপেশিও ঠিকমতো কাজ করছিল না। গত ৩ জানুয়ারি বিকেলে সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তারা খবর পান, চাঁদপাই রেঞ্জের জয়মনির শরকির খাল সংলগ্ন এলাকায় হরিণ ধরার ফাঁদে একটি বাঘ আটকা পড়েছে।
পরদিন ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঘটিকে অচেতন করে ফাঁদমুক্ত করে। পরে রাতেই তাকে খুলনা রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা শুরু হয়। ৬ জানুয়ারি বিশেষজ্ঞ দল আবার খুলনায় এসে বাঘিনীর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা ও চিকিৎসা তদারকি করে।
