ঢাকা
১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৮:৫৬
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

বাউফলে বিএনপি-জামায়াতের একাধিক সংঘর্ষে আহত ৪

নিলা, বাউফল, (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) সংসদীয় আসনে পৃথক পৃথক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর চারজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এছাড়া বিএনপির একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, একটি দোকান থেকে দুইটি দেশীয় অস্ত্র (রামদা) উদ্ধারের ঘটনায় দোকানিকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আটটার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে এবং পরে মধ্যরাতে কেশবপুর ইউনিয়নে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, কালাইয়া ইউনিয়নের , রায়হান (১৭) ও ফারুক হাওলাদার (৪৫) এবং কেশবপুর ইউনিয়নের নাইম (২৯) ও সাঈদ (৩১)। এদের মধ্যে রায়হান ও ফারুকের অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাইয়া ইউনিয়নের আয়নাবাজ কালাইয়া গ্রামে জামায়াতের একটি প্রচার মিছিল চলাকালে একজন বিএনপি সমর্থক ধানের শীষের স্লোগান দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে এক জামায়াত সমর্থকের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে মিছিলে থাকা জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা এসে বিএনপির একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে ঢুকে ওই বিএনপি সমর্থকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে উভয় দলের আরও নেতা-কর্মী দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কিছুক্ষণ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় রায়হান নামের এক ছাত্রদল কর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় স্থানীয় একটি দোকান থেকে দুইটি দেশীয় অস্ত্র (রামদা) উদ্ধার করা হয় এবং দোকানি সোহেলকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

এদিকে একই এলাকায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফারুক হাওলাদার নামের এক জামায়াত সমর্থককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, যুবদলের আহ্বায়ক গাজী গিয়াসের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অপরদিকে, মধ্যরাতে কেশবপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সাঈদ ও নাইম নামের দুই জামায়াত সমর্থককে মারধর করা হয়। তাদের অভিযোগ, বিএনপি সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

আটক দোকানি সোহেল জানান, তার কাছে কোনো অস্ত্র পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের সময় কেউ নজর এড়িয়ে তার দোকানে রামদা রেখে যেতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পরে আহত ছাত্রদল নেতা রাহয়ানের শারিরীক অবস্থার খোঁজ খবর নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদার। এসময় নিজ দলীয় নেতা-কর্মী ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের শান্ত থাকার জন্য আহবান জানান তিনি।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী গিয়াস বলেন, জামায়াতের সমর্থকরা মিছিল সহকারে হঠাৎ আমাদের একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালায় এবং ছাত্রদল নেতা রায়হানকে কুপিয়ে জখম করে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। ফারুক হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনায় আমি জড়িত নই, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

জামায়াতের সমর্থক শাহিন বলেন, “আমরা নির্বাচনী ক্যাম্পের ধারেকাছেও যাইনি। বরং দোকানের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের কয়েকজন কর্মীকে বিএনপির লোকজন হামলা চালিয়ে আহত করেছে।

” এ বিষয়ে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পুলিশ সূত্র জানায়, বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে এবং কালাইয়া ইউনিয়ন থেকে দেশীয় অস্ত্র (রামদা) উদ্ধারসহ একজনকে আটক করা হয়েছে।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram