ঢাকা
৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ৬:৪২
প্রকাশিত : জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
প্রকাশিত : জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায় ও জাইমা রহমান

বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন নাম হিসেবে যে ব্যক্তি আলোচনায় এসেছে, তিনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। স্থাপনাধীন রাজনৈতিক মানচিত্রে তার প্রকাশ্য উপস্থিতি ও বক্তব্যগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে যে তিনি আসন্ন বছরগুলোতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেন। তিনি শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া সদস্য নয়; তার কর্মকাণ্ড ও অবস্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরিবার ও রাজনৈতিক পটভূমি
জাইমা রহমান বাংলাদেশের অন্যতম সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারে জন্মেছেন। তার পিতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, এবং তার দাদী বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া  এই দুই নেতৃত্ব জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘজীবী ভূমিকা পালন করেছেন। এই পরিবারগত রাজনৈতিক ঐতিহ্যই জাইমা রহমানকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণে সরাসরি লক্ষণীয় করে তুলেছে।
তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন থেকে বিএনপি পরিচালনা করছেন এবং দলের আধুনিক করার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। জাইমাকে এমন এক প্রেক্ষাপটে রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে BNP-র ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও তরুণ নেতৃত্বের আগমন নিয়ে জল্পনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব
২০২৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে জাইমা রহমান অংশগ্রহণ করেন, যেখানে তিনি বিএনপি দলের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এই আন্তর্জাতিক টেবিলে তার নাম ও অংশগ্রহণ কেবলমাত্র একটি পারিবারিক সম্মান হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও দলে তরুণদের সম্ভাব্য ভূমিকা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি রাজনীতিকদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু পক্ষ এটিকে রাজনৈতিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হিসেবে দেখছে, আবার অনেকে মনে করছেন যে এটি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তার সক্রিয় অবদানের সূচনা। যদিও বিএনপি পক্ষের মন্তব্য অনুযায়ী, এটি নিছক প্রতিনিধিত্ব এমনটা বলা ঠিক নয়; কিছুটা রাজনৈতিকভাবে তিনি দলের তরুণ প্রতিনিধিত্বও করেছেন।
বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধন
২০২৫ সালের শেষ দিকে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমান পরিবারসহ বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সেই ধারাবাহিকতায় জাইমা রহমানও একটি ভোটার হিসেবে নিজের নাম নিবন্ধন করান, যা তার রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও নাগরিক দায়িত্বের প্রতিফলন। নিবন্ধনের সময় তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন, যা পরিবার হিসেবে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির একটি প্রকাশ্য সংকেত দিচ্ছে।
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে একটি নতুন বার্তা দিয়েছে। একজন রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিলেও ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দেখা যাচ্ছে, যা তাকে ভবিষ্যতে নির্বাচনী রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের পথ খুলে দিতে পারে।
জনপরিসরে বক্তব্য
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে, ঢাকার একটি বিশেষ আলোচনা সভায় প্রথমবার জনপরিসরে বক্তব্য প্রদান করেন জাইমা রহমান। সেখানে তিনি গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সুগভীর মতামত তুলে ধরেন। এই বক্তব্য নিজেই নতুন প্রজন্মের একজন রাজনীতিকের উত্থান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁর অবস্থানের প্রতিচ্ছবি বহন করে।
এটি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জনসমক্ষে মন্তব্য ও মতামত প্রকাশ করা একটি সাধারণ কাজ হলেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে এসে নিজের স্বাধীন রাজনৈতিক চিন্তা ব্যক্ত করাটা বিস্তর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
রাজনৈতিক জল্পনা ও জনমত
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জাইমা রহমান সম্পর্কে নানা জল্পনা চলছে। একদিকে অনেকে মনে করেন তিনি ভবিষ্যতে BNP-র নেতৃত্বে আরও প্রকাশ্য ভূমিকা নিতে পারেন, অন্যদিকে আছে ধারণা যে তিনি সিদ্ধান্তটা নিজে গ্রহণ করবেন শুধুমাত্র যখন সময় এবং পরিস্থিতি উপযোগী হবে। তারেক রহমান নিজে একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “সময় ও পরিস্থিতি বলে দেবে”। এটি স্পষ্ট করছে যে জাইমা নিজের রাজনীতিতে আসা বা ভূমিকা গ্রহণ নিয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন এবং এটি সঠিক সময়ে প্রকাশ করবেন।
ইন্টারনেটে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যেও তার বিভিন্ন গল্প, সেলফি ও মন্তব্য নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কিছু আলোচনায় দেখা যাচ্ছে সামাজিক পর্যায়ে তার প্রতি সমর্থনও তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ ও নারীর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
উপস্থিত রাজনৈতিক তথ্য ও বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে জাইমা রহমান রাজনীতিতে আসতে চলেছেন এই প্রবণতা শক্তিশালী হচ্ছে, যদিও এখনো পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদ বা দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। দলীয় ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে তার অভ্যর্থনা ও নেতা হিসেবে অনুধাবন ক্রমেই বাড়ছে।
একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যতের দৃশ্য হল, জাইমা নিজেকে ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের রূপে প্রতিষ্ঠা করবেন। তরুণ নেতাদের প্রতিনিধিত্ব, নারীর ক্ষমতায়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব
এই জিনিসগুলো তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল দিকে নজর দিতে পারে।
সামগ্রিকভাবে দেখলে, জাইমা রহমান বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে “নীরব আগমন” হিসেবে বিবেচিত হলেও এটি ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। তিনি কেবল রাজনীতির উত্তরাধিকার গ্রহণ করছেন না, বরং নিজের স্বতন্ত্র চিন্তা ও অবস্থান তৈরি করার দিকে এগোচ্ছেন। এর ফলে তিনি ভবিষ্যতের বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিত হতে পারেন।

তৌসিফ রেজা আশরাফী
লেখক ও শিক্ষার্থী
সৈয়দপুর, নীলফামারী

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram