

আবু তাহের, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যবাহী সাঘাটা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলামের অবসরজনিত বিদায় এবং নবাগত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে রুহুল আমিন রানার সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহায়ক সুভাষ চন্দ্র পালেরও অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
১৯ জুলাই রোববার দুপুরে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মিলনায়তন কক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশে এই বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উক্ত কলেজের সহকারি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় আবু শরিফ মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান রিপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাঘাটা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন সরকার, সমাজ সেবক সিনিয়র ব্যক্তি শাহ আলম মন্ডল, সাঘাটা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, ঘুড়িদহ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ তুলিপ এবং সাঘাটা উপজেলার একাডেমিক সুপারভাইজার আমিরুল ইসলাম,
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাঘাটা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আরশাদুল কবির রাঙ্গা, সাঘাটা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী মন্ডল, হলদিয়া বেড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, কামালের পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান, মুন্সিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, কুন্দুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাফি এবং জুমারবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির গর্ভনিং বডির এডহক কমিটির সভাপতি রোকনুজ্জামান বলেন,
আমরা একজন গুণীজনকে হারালাম।যিনি প্রতিষ্ঠানটিকে সুন্দর করে সাজানোর প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন। তার পথ ধরেই নবাগত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ যেনো প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের মত ভাবেন। এটাই প্রত্যাশা।
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বপালন করতে গিয়ে অনেক সময় আপনাদের সাথে হয়তো মনের অজান্তেই কষ্ট দিয়েছি। বিদায় বেলায় সেসব মনে করে খুব কষ্ট পাচ্ছি। আমার ব্যবহারে কখনো কেহ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তা মার্জনা করবেন। সেই সাথে আমার জন্য মহান রাব্বুল আল আমিনের কাছে প্রার্থনা করবেন আল্লাহ আমাকে যেনো সুস্থ ও নেক হায়াত দান করেন। তিনি আরো বলেন এটা ছিল আমার প্রাণের প্রতিষ্ঠান। যাকে আমি সন্তানের মত আগলে রাখার চেষ্টা করছি।
সাঘাটা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম ইনিস্টিউটের অধ্যক্ষ আরশাদুল কবির রাঙ্গা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের উদ্দেশ্য বলেন, সাঘাটা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শুধু উপজেলা নয় জেলা নয় বোর্ডের মাঝে ভালো ফলাফল করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার যথেষ্ট সজাগ। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। এটা এই শিক্ষা বান্ধব সরকারের সফলতার মাইলফলক।
ঘুড়িদহ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ তুলিপ বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজটি মানুষের মন জয় করেছে। আগামীতে যেনো এই সুণামের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে সেজন্য সব সময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
প্রতিষ্ঠানের নবাগত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুহুল আমিন রানা তার বক্তব্য বলেন, অবসরপ্রাপ্ত গুণীজনদের পরামর্শ ও ম্যানেজিং কমিটির পরামর্শ এবং সহযোগিতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করবো। আপনারা সবাই আমার ভুলত্রুটি ধরে দিবেন। তেলবাজি নয় যারা আমার ভুল ধরে সহযোগিতা করবে তাদেরকেই আমি বেশি সম্মান জানাবো।
বক্তারা বিদায়ী অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘ কর্মময় জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। একই সাথে নবাগত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুহুল আমিন রানার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে বিদায়ী অধ্যক্ষের হাতে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পবিত্র কুরআন শরিফ, জায়নামাজসহ বিভিন্ন স্মৃতি উপহার তুলে দেওয়া হয়।
শেষে বিদায়ের ক্ষণটিকে স্মরণীয় ও সম্মানজনক করে রাখতে প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটি, গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ এবং কলেজের সকল অধ্যাপক, সহকারি অধ্যাপক, প্রভাষক ও শিক্ষক মণ্ডলী পুস্পমাল্য দিয়ে সুসজ্জিত একটি গাড়িতে করে বিদায়ী অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলামকে সসম্মানে তাঁর নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেন। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান জুড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
