

বিশেষ প্রতিবেদক,সৈয়দপুর:
অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করেই জীবন কাটছে অসহায় পিতা মিস্টল ইসলামের। সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকার একটি ছোট্ট টিনের ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। নিজের বলতে নেই কোনো ঘরবাড়ি কিংবা পৈতৃক সম্পত্তি। পেশায় তিনি একজন আইসক্রিম বিক্রেতা। সারাদিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে আইসক্রিম বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে চলে তার সংসার।
মিস্টল ইসলামের বড় মেয়ে মিশু আক্তারের বিয়ে গত তিন মাস আগে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সিংগের গাড়ী এলাকার নুর মোহাম্মদ তাওহীদের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। কিন্তু দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে বিদায় দিতে পারছিলেন না অসহায় এই পিতা। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও বিদায়ের প্রয়োজনীয় খরচ জোগাড় করতে না পারায় দিন পার করছিলেন চরম দুশ্চিন্তায়।
ঠিক এমন সময় তিনি জানতে পারেন মানবিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “হৃদয়ে সৈয়দপুর” এর কথা। এর আগেও সংগঠনটি চারজন অসহায় মেয়ের বিবাহ বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
পরবর্তীতে মিস্টল ইসলাম যোগাযোগ করেন হৃদয়ে সৈয়দপুর সংগঠনের কামারপুকুর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক জনি সরকারের সঙ্গে। বিষয়টি জানার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়, সংগঠনের আয়োজনে মিশু আক্তারের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে। এতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন হতদরিদ্র পিতা।
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গত ৩১ মে রবিবার রাতে শহরের রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবে মিশু আক্তারের বিবাহ বিদায় অনুষ্ঠান সম্পুন্ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা এরশাদ হোসেন পাপ্পু, রেজাউল করিম রেজা, রবিউল আউয়াল রবি, বুলবুল সরকার, আশরাফুল হক লিপটন, নুর আলম ভরসা, সাবিনা ইয়াসমিন মাশা, ফিরোজ আহমেদ, মনিরা আক্তার মিল্কি, প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সোহেল রানা, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ রুবেল, সহ-সভাপতি মোঃ রুবেল, যুগ্ম সম্পাদক খালিদ হাসান, যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিঠু, উপজেলা সভাপতি এম মাসুদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান, কামারপুকুর ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ রিদয় ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক জনি সরকার,ইমরান হক, মোঃ রাইয়ান,মেহেদী হাসান,নাজমুল হক,ইমরান নিজাম সহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।
সংগঠনের উপদেষ্টা রবিউল আউয়াল রবি বলেন, “মানবতার সেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সমাজে অনেক অসহায় পরিবার রয়েছে যারা অভাবের কারণে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোও আনন্দের সঙ্গে পালন করতে পারেন না। মিস্টল ইসলামের পরিবারের কষ্টের কথা জানতে পেরে হৃদয়ে সৈয়দপুর সংগঠন পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে কোনো অসহায় পরিবার আর কষ্টে থাকবে না। ভবিষ্যতেও হৃদয়ে সৈয়দপুর সংগঠন মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
মেয়ের পিতা মিস্টল ইসলাম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি একজন গরীব মানুষ। সারাদিন আইসক্রিম বিক্রি করে যা আয় করি তা দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালাই। মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু বিদায়ের খরচ জোগাড় করতে না পেরে খুব কষ্টে ছিলাম। হৃদয়ে সৈয়দপুর সংগঠন আমার পাশে দাঁড়িয়ে আমার মেয়ের বিদায়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি তাদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ।
