

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলায় এক তরুণকে সম্পূর্ণ নিরপরাধ দাবি করে তার পরিবার ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
লক্ষ্মীপুর সদর পশ্চিম বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান খোকন Facebook এ এক পোস্ট এমনটাই দাবি করে বলেন বিষয়টি পুনঃতদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।
অভিযোগ অনুযায়ী, চন্দ্রগঞ্জ থানায় রুজু করা মামলা নং ৯(১২)২০২৫, যা ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ)/১৯(১) ধারায় দায়ের করা হয়েছে—সে মামলায় আবদুল্যাহ রাজন নামে এক তরুণকে আসামি করা হয়েছে।
রাজনের বাড়ি ৭ নম্বর বশিকপুর ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামে। তিনি স্থানীয় হাফেজ মোনায়েমের ছেলে।
রাজনের পরিচিতজন ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি সম্পূর্ণ নিরপরাধ এবং তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে এলাকাবাসীর কেউই রাজনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দেয়নি। এমনকি তার বিরুদ্ধে অস্ত্র সংক্রান্ত কোনো সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও নেই বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে এক স্থানীয় অভিভাবকসুলভ ব্যক্তি, যিনি নিজেকে রাজনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, বলেন—“রাজনকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। তার চরিত্র, আচরণ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সবসময় ইতিবাচক। সে কখনো কোনো অপরাধে জড়িত ছিল না।” তিনি আরও দাবি করেন, রাজনের ভদ্রতা ও কর্মদক্ষতার কারণে তাকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার নির্বাচনী মিডিয়া টিমেও যুক্ত করা হয়েছিল।
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনে বিরাহিমপুর গ্রামে এসে প্রকাশ্যে তদন্ত করা হোক। “যদি অন্তত পাঁচজন ব্যক্তি রাজনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমরা তাকে নিজেরাই আইনের হাতে তুলে দেবো,” অন্যথায় নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি না করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, রাজনকে মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী। তারা দ্রুত এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম দৈনিক নতুন কাগজকে মুঠোফোনে জানান, আলোচিত মামলাটি থানা পুলিশ দায়ের করেনি।
তিনি বলেন, “অভিযানটি যৌথবাহিনী পরিচালনা করে। তারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে এবং পরবর্তীতে তারাই মামলাটি দায়ের করে। এ ঘটনায় আমাদের থানার সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেও কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন জরুরি। এতে একদিকে যেমন নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবে না, অন্যদিকে প্রকৃত অপরাধীরাও আইনের আওতায় আসবে।
