

বাউফল (পটুয়াখালী ) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সদর ইউনিয়নে অগ্নিকান্ডে আব্দুল মোতালেব ও ফরহাদ নামের দুই ব্যক্তির বসতঘর দুটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাত ১১টার দিকে সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে চরের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এঘটনায় দুই পরিবারের পাঁচ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। তবেকোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ভুক্তভোগী পরিবাররা জানান, প্রতিদিনের মত বাড়ির সবাই রাতের খাবার খেয়ে যখন ঘুমিয়ে পড়েন ঠিক তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটে। কোনকিছু বুঝে না উঠার আগেই চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে কোনমতে পরিবারের লোকজন জীবন বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে ঘর থেকে বের হন। পরে বাড়ির লোকজনের ডাক-চিৎকার শুনে পাশ্ববর্তী এলাকার লোকজন ছুটে আসে আগুন নিভাতে। অনেক চেষ্টা করেও ঘর দুটি বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দিলে তারা আসতে বিলম্ব হওয়ায় ঘর দুটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ব্যাপারে মৃত ফরহাদের স্ত্রী পারভীন বেগম বলেন, আমরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরেছি কিভাবে আগুন লেগেছে তা জানি না। আমার কিছুই নেই, সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
তিনি আরোও বলেন, আমার ট্রাঙ্গের ভিতরে দশহাজার টাকা, কিছু স্বর্ণ, জামাকাপড়, ল্যাপ-তোষক, চাল ও ডাল কোন কিছুই নেই। মোতালেব এর পুত্রবধূ মনিরা বলেন, আগুন দেখে আমার ছোট মেয়ে নিয়ে কোনরকম ঘর থেকে বের হয়েছি। আমার ঘরের মালামালসহ হাঁস-মুরগিগুলোও পুরে ছাই হয়ে গেছে। সদর ইউনিয়নের জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুস সোবাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কিছু আর্থিক সহায়তা করেন।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। বাউফল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে সাথে সাথে দুটি গাড়িসহ দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা করি। তবে দুটি ঘর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানান তিনি।
